নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রিটিশ কাউন্সিল (এনএইচসিআইএস) পার্টনার স্কুলস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ‘লিডারশিপ ইন টিচিং’ ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটি ঢাকার দিলু রোডে অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল।
এই ক্যাটাগরিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং চূড়ান্ত বিজয়ী সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাশাপাশি এনএইচসিআইএসকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়।
এনএইচসিআইএস-এর এই অর্জনের মূলে রয়েছে শিক্ষক উন্নয়ন, কারিকুলাম এবং ইনস্ট্রাকশনাল লিডারশিপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুসের নেতৃত্বে স্কুলটি শিক্ষকদেরকে গতানুগতিক ভূমিকা থেকে বের করে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষকরা যেন কেবল পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নকারী না হয়ে ‘কারিকুলাম ডিজাইনার’ হতে পারেন—যারা শুধু কী পড়াচ্ছেন তা-ই নয়, বরং কেন পড়াচ্ছেন, শিক্ষার অগ্রগতি কীভাবে হওয়া উচিত এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমকে কীভাবে রূপ দেওয়া যায় তা বুঝতে পারেন—সেভাবেই তাদের উৎসাহিত ও সহায়তা করা হচ্ছে।
শিক্ষকরা নিয়মিত যৌথ পরিকল্পনা, পেশাগত শিখন সেশন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নিয়ে পর্যালোচনা এবং কারিকুলাম উন্নয়নে অংশ নেন। ফলে শিক্ষাদানকে কেবল একটি নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করার কাজ হিসেবে না দেখে একটি পেশাগত দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুস বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সবচেয়ে শক্তিশালী ক্লাসরুমগুলো গড়ে তোলেন সেই শিক্ষকরা, যাদের শুধু নির্দেশ মেনে চলার বদলে ভাবা, ডিজাইন করা এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হয়। শিক্ষকরা যখন কারিকুলামের স্থপতি হন, তখন শিক্ষার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের গভীর অনুধাবন তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণিকক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
স্কুলটির এই পদ্ধতি মূলত শিক্ষকদের ‘কারিকুলাম আর্কিটেক্ট’ বা কারিকুলামের স্থপতি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়, যারা পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য, শিক্ষাদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারেন। এর মূল লক্ষ্য হলো কারিকুলামের ধারণাগুলো যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রেণিকক্ষে বাস্তব ও অর্থবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
তাই নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রিটিশ কাউন্সিল (এনএইচসিআইএস) এর জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই স্বীকৃতি কেবল ফাইনালিস্ট হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। এটি স্কুলটির সেই পেশাগত সংস্কৃতিরই একটি স্বীকৃতি, যা তারা যত্ন সহকারে গড়ে তুলছে—আরও দক্ষ শিক্ষক, কারিকুলামের ওপর স্বকীয় অধিকার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উদ্দেশ্যপূর্ণ শিখন পরিবেশ।
মারিয়াম নূর ইউনূস আরও যোগ করেন, “এই ক্যাটাগরিতে অন্যান্য শক্তিশালী স্কুলের পাশাপাশি স্বীকৃতি পেয়ে আমরা গর্বিত। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমার শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ দেখা। শিক্ষকরা যখন চিন্তাবিদ, ডিজাইনার এবং শিক্ষার স্থপতি হয়ে ওঠেন, তখন তারা এমন ক্লাসরুম তৈরি করতে পারেন যেখানে শিক্ষাদান ও শেখার পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়।”
