গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত হওয়া অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকালে তার ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ২১ অক্টোবর মাদ্রাসার এক শিক্ষক কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে আলোচনায় আসেন এই বাবা।
মঙ্গলবার সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, মূল দরজায় তালা ঝুলছে। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার শুক্রবার থেকেই বাসায় নেই। তারা ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এবং শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন। রুমি বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করলেও তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তত্ত্বাবধায়ক।
এদিকে শাহজালাল রুমির শ্বশুর আলহাজ মোকারম আলী মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, রুমি বর্তমানে দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন, সে বিষয়ে তাদের পরিবারও কিছু জানে না। নিরাপত্তার খাতিরে বা অন্য কোনো কারণে তারাও বর্তমানে আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক খুদেবার্তায় শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের জানান, তিনি আর এই দেশে নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি আর ভাবতে চান না। তিনি সবাইকে ভালো থাকার প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, যা হওয়ার তা-ই হোক।
ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন নাকি দেশেই আছেন, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তার বাসায় খোঁজ নেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২১ অক্টোবর টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকেও রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
