চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রথম বৈঠক হল সোমবার। মহাকরণে প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের বৈঠকের পর সিট-এর প্রধান তথা কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার) থেকে তাঁরা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করবেন।
সোমবারের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল চোরবাগান পুজো কমিটির কয়েক জন কর্তাকে। ছিলেন কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকও। সূত্রের দাবি, বৈঠকে কী কারণে দুর্ঘটনা, দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকার জায়গা কতটা প্রশস্ত ছিল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে ‘সিট’ গঠন করেছে। রাজ্য সরকার চেয়েছিল ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য স্পেশ্যাল কমিশন গঠন করতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চেয়েছিলেন, হাই কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠিত হোক। সেই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের কাছে চিঠি পাঠান। প্রধান বিচারপতি তাঁর প্রেক্ষিতে চিঠিতে জানান, কোনও বর্তমান বিচারপতি নয়, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশের পরই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
এই কমিটির মূল দায়িত্ব হল, কী ঘটেছিল সে দিন, সেই কারণ খুঁজে বার করা। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখতে বলা হয়েছে এই নতুন কমিটিকে। ঠিক কোন সময়ে, কোন জায়গায় এবং কী ভাবে প্রথম ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে হবে তাদের। ওই মণ্ডপে যত লোক ধরার কথা, ওই সময় তার থেকে বেশি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে সিট। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়া’র ঘোষণা, না কি বৃষ্টি কারণ ছিল, তা-ও বিবেচ্য বিষয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যত কী কী করা উচিত, তা-ও সুপারিশ করবে তারা। তিন মাসের মধ্যে সিট-কে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট দিতে হবে। এখনও পর্যন্ত তদন্তে কী কী অগ্রগতি ঘটেছে, তা অবশ্য সোমবার জানাতে চাননি সিট-এর প্রধান।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে তাঁরা মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে বলে ঘোষণা করার পরেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কুশলের দাবি, ‘পুলিশের এক জনের’ কথাতেই সপ্তমীর সন্ধ্যায় ওই ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর নাম জানাতে পারেননি। কোন পরিস্থিতিতে তা করেছিলেন, সেই ব্যাখ্যাও দেন। এ বার পুলিশের সিট তাঁর সেই বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
