‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-প্রেক্ষিত পাহাড়ি কৃষি’ এই প্রতিপাদ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড়ি কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয় নিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাঙামাটিতে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটি আয়োজন করে কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাঙামাটি আঞ্চলিক কার্যালয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন-বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহবুবুর রশীদের। কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ এমএম শাহ নেওয়াজের। সভাপতিত্ব করেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মসীহুর রহমান। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের রাঙামাটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলী সিংহ রায়। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী ও রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব-এর প্রেক্ষিতে পাহাড়ি কৃষি’ শীর্ষক উপস্থাপনায় রাঙামাটি অঞ্চলের কৃষি ও জমির বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এতে জেলার আয়তন ১৩ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর, কৃষিযোগ্য জমি ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৯৪ হেক্টর, কাপ্তাই হ্রদের আয়তন ৫৮ হাজার ৩০০ হেক্টর এবং পতিত জমি ১৬ হাজার ৬৬৮ হেক্টর উল্লেখ করা হয়েছে। জেলায় কৃষি ব্লকের সংখ্যা ৩৭০টি।
উপস্থাপনার আরেকটি সারণিতে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২ লাখ ১ হাজার ৩৬৩ হেক্টর দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে এক ফসলি জমি ৬৬ হাজার ৮১১ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৫৪ হাজার ৭৮১ হেক্টর এবং তিন ফসলি জমি ৮ হাজার ৩৩০ হেক্টর। সারণিতে এসব জমির অনুপাত যথাক্রমে ৫২, ৪২ ও ৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্যান ফসলের আবাদি জমি ২০১৬ সালে ৯৫ হাজার ৫২০ হেক্টর থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯৯ হাজার ৬০৪ হেক্টর হয়েছে বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে ৯ বছরে জমির পরিমাণ বেড়েছে ৪ হাজার ৮৪ হেক্টর।
পাহাড়ি কৃষির চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপনায় মাটি ক্ষয়, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার সংযোগের দুর্বলতা এবং শ্রমিকসংকটের কথা বলা হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ড্রোন দিয়ে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, সেন্সরের সাহায্যে মাটির আর্দ্রতা ও পুষ্টি পরিমাপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও সার প্রয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
পাহাড়ি কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢালু জমিতে ধাপচাষ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে জুমচাষের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপস্থাপনায় ৪আইআর প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর হিসাব দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি কৃষির উন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য কৃষি পরিসংখ্যান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ এবং দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জমির শ্রেণিভিত্তিক হিসাবের অসংগতি দূর করে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা গেলে কৃষি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন সহজ হবে।
