কেউ কেউ আছেন অফিসের পরিবেশ যতই সুন্দর হোক, কাজের চাপ যতই কম থাকুক—সে সবসময় অতৃপ্ত আত্মা। এসি বেশি ঠান্ডা, মিটিং দীর্ঘ, সহকর্মীরা বেশি কথা বলেন- কোনো না কোনো কারণে সে বিরক্তি থাকবেই। সাহায্য করতে গেলেও উল্টো দুটো কড়া কথা শুনিয়ে দেবে
অফিসে কাজের চাপ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়া কিংবা ব্যক্তিগত কোনো দুশ্চিন্তা থেকে অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কেউ সামান্য ভুলেই বিরক্ত হন, কেউ আবার সহকর্মীদের সঙ্গে কথায় কথায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমন মানুষের সঙ্গে একই কর্মপরিবেশে কাজ করা কখনো কখনো বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। কেউ কেউ আছেন অফিসের পরিবেশ যতই সুন্দর হোক, কাজের চাপ যতই কম থাকুক—সে সবসময় অতৃপ্ত আত্মা। এসি বেশি ঠান্ডা, মিটিং দীর্ঘ, সহকর্মীরা বেশি কথা বলেন—কোনো না কোনো কারণে সে বিরক্তি থাকবেই। সাহায্য করতে গেলেও উল্টো কড়া কথা শুনিয়ে দেবে।
অফিসের এমন পিরানহা গোত্রীয় সহকর্মীদের সামলে রাখতে ২৭ অক্টোবর বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয় ‘ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে’। বাংলায়—খিটখিটে সহকর্মী দিবস। দিনটি তাদের নিয়ে একটু হাসিঠাট্টা করার, আবার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোমড়া মুখের মানুষটিকেও চিনে নেয়ার সুযোগ। তবে সাবধান, মজা করতে গিয়ে যেন অফিসের পরিবেশটাই আরো খিটখিটে না হয়ে ওঠে!
তবে পরিস্থিতি সামলাতে সব সময় পাল্টা জবাব দেয়ার প্রয়োজন নেই। কখনো একটু ধৈর্য, সহমর্মিতা কিংবা ছোট্ট উপহারও পরিবেশকে সহজ করে তুলতে পারে। দিনটির উপলক্ষ সহকর্মীদের খিটখিটে স্বভাব নিয়ে মজা করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহনশীলতার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়া। এ অগ্নিমূর্তি সহকর্মীদের শান্ত করতে করপোরেট জগতের কিছু পরীক্ষিত ফানি ও কার্যকরী কৌশল দেখে নেয়া যাক—
চকলেটে শুরু হোক সৌহার্দ্য
কাজের চাপে কেউ বিরক্ত থাকলে ছোট্ট কোনো উপহার তার মন ভালো করার উপলক্ষ হতে পারে। পছন্দের চকলেট বা মিষ্টি কিছু ভাগ করে নেয়া সহকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব কমানোর সহজ উপায়। তবে চকলেট দিলেই কারো রাগ কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উপহার দেয়ার সময় তার পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
মিমে জমুক মজা
খিটখিটে সহকর্মী দিবসে রাগী বিড়ালের মিম পাঠানোও হতে পারে মজার আয়োজন, বিশেষ করে যদি সহকর্মীরা এমন রসিকতা উপভোগ করেন। চাইলে নিজের বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়েও হাসাহাসি করতে পারেন। তবে কাউকে লক্ষ্য করে এমন কিছু পাঠাবেন না, যাতে তিনি অপমানিত বোধ করেন।
তর্ক নয়, সহমর্মিতা
কোনো সহকর্মী অকারণে মেজাজ দেখালে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো। শান্তভাবে তার কথা শোনা এবং প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলা যেতে পারে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলোচনা কিছুক্ষণ পিছিয়ে দেয়াও কাজে আসতে পারে। ব্যঙ্গ করে কথা বলা বা রাগের মুহূর্তে কৌতুক করার চেষ্টা উল্টো বিরক্তি বাড়াতে পারে।
প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখুন
কিছু মানুষ আছেন, যাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তাদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলা যায়। ব্যক্তিগত বিষয়ে জড়িয়ে না পড়ে কাজের কথায় সীমাবদ্ধ থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখা কর্মক্ষেত্রে স্বস্তি দিতে পারে।
নিজের আচরণও খেয়াল করুন
অন্যের খিটখিটে স্বভাব চোখে পড়লেও নিজের আচরণ নিয়ে ভাবা জরুরি। কাজের চাপের মধ্যে নিজের কথার ধরন, মুখভঙ্গি কিংবা প্রতিক্রিয়া কখনো অজান্তেই অন্যকে বিব্রত করতে পারে। তাই সহকর্মীর আচরণে বিরক্ত হওয়ার আগে নিজের ব্যবহারও একবার পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে মতের অমিল কিংবা সাময়িক বিরক্তি অস্বাভাবিক নয়। তবে পারস্পরিক সম্মান, ধৈর্য ও সহযোগিতার মনোভাব থাকলে অনেক জটিল পরিস্থিতিও সহজে সামাল দেয়া সম্ভব। ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে তে তাই অফিসের খিটখিটে সহকর্মীকে একটি চকলেট দিতে পারেন। ছোট্ট এ উদ্যোগ হয়তো তার দিনটিকে আনন্দময় করে তুলবে, আর আপনাদের সম্পর্কেও যোগ করবে নতুন এক মাত্রা।
