মার্কিন ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার সামান্য শক্তিবৃদ্ধি। কিন্তু, তা সত্ত্বেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল এ দেশের টাকা বা রুপি। কারণ, বিশ্ববাজারে এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে খনিজ তেলের দাম। তা ছাড়া, ভারতীয় শেয়ার বাজারে ফিরে আসার কোনও গরজ দেখাচ্ছেন না বিদেশি লগ্নিকারীদের বড় অংশ।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, দিনের শুরুতে ভারতীয় মুদ্রায় ১ ডলারের দাম ওঠে ৯৪.৯৩-এ। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর যেটি ছিল ৯৪.৯৪ রুপি। অর্থাৎ, এ দিন এক পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে রুপির দাম। কিন্তু, তার পরেও প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য যে ভারতীয় মুদ্রায় ৯৫ টাকা ছাড়িয়ে যাবে না, তেমনটা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
এ দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলারে ওঠে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম। ‘তরল সোনা’র সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে ভারত। এর ফলে, জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, লাগাতার মার্কিন মুদ্রা কিনতে বাধ্য হচ্ছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)।
কারণ, বিশ্ব বাজারে মূলত ডলারে বিক্রি হয় খনিজ তেল। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, সেই কারণেই ‘তরল সোনা’র মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাতার শক্তিবৃদ্ধি করছে মার্কিন মুদ্রা। অন্য দিকে, ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি অর্থ ব্যয় করে সেটি কিনতে হচ্ছে আরবিআই-কে। আর তাই, রুপির সামান্য মাথা তুলে দাঁড়ানো খুব বেশি স্বস্তিজনক নয় বলেই জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভারতীয় টাকার সামনে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হল, বিদেশি লগ্নিকারীদের বড় অংশের এ দেশের শেয়ার বাজারত্যাগ। চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ৪৮,০৫৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন তারা। এর নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি আমেরিকায় সুদ ও বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড) বৃদ্ধিকেই দায়ী করা হচ্ছে।
এ বছর এখনও পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির তুলে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.০৮ লক্ষ কোটি টাকা। এহেন পরিস্থিতিতে স্টকের দুনিয়ায় পা রাখতে ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও এনেছে ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর সংস্থা জ়িয়ো প্ল্যাটফর্মস। যাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চড়ছে প্রত্যাশার পারদ।
জ়িয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে আবেদন করার ক্ষেত্রে লগ্নিকারীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে হুড়োহুড়ি। কিন্তু, তাতেও ভারতীয় মুদ্রার পতন আটকানো গিয়েছে, এমনটা নয়। কারেন্সি পজিশন গুটিয়ে নেওয়ার ফলে ডলারের নিরিখে ৯৪.৩২ থেকে কমে ৯৪.৯৭-এ নেমে আসে রুপি। ২৮ অক্টোবর তালিকাভুক্তির পর সেটি আরও দুর্বল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
