ইস্টবেঙ্গল - ০
আল-সিব - ০
ওমানের মাটিতে আল-সিবকে রুখে দিল ইস্টবেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র ম্যাচ শেষ হল গোল শূন্য অবস্থায়। তিন ম্যাচের পর লাল-হলুদ ব্রিগেডের পয়েন্ট ২। ওমানের চ্যাম্পিয়ন দলকে রুখে দিয়ে প্রতিযোগিতার পরের পর্বে যাওয়ার আশা কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখল আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের দল।
আল-সিবের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালহানসাঙ্গারা। প্রথম থেকেই আক্রমণ-প্রতি
আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। দু’দলের ফুটবলারেরাই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা
করতে শুরু করেন। এর মধ্যেই ৮ মিনিটে আল-সিবের আব্দুল মাজিদ আল বালুশির বাঁ পায়ের
শক্তিশালী শট আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক লাচেনপা। এর পর ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারে
সতর্ক হয়ে যান। ১৩ মিনিটে আক্রমণ তৈরি করেন দানি রামিরেজ়। তিনি বক্সের মধ্যে বল
দেন জয় গুপ্তাকে। আল-সিবের ডিফেন্ডারেরা পরিস্থিতি সামলে দেন। ক্রমশ ম্যাচের রাশ
নিজেদের পায়ে নিতে শুরু করেন হাবাসের ফুটবলারেরা। ১৬ মিনিটেও রামিরেজ়-জয়ের
বোঝাপড়ায় তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে গোল করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও আল-সিবের ফুটবলারেরাও সমানে সমানে লড়াই করেছেন। পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন লাল-হলুদ বক্সে। কিন্তু প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কোনও দলই। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে রামিরেজ়, লালহানসাঙ্গারা একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দু’দলই। কারণ শেষ ১৬-য় যাওয়ার জন্য উভয় দলের কাছেই এই ম্যাচে জয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দু’দলের আক্রমণভাগের ফুটবলারেরাই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মাঝ মাঠে রশিদের নেতৃত্বে দ্বিতীয়ার্ধেও কয়েকটি ভাল আক্রমণ তৈরি করে লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু আল-সিবের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি স্ট্রাইকারেরা। দ্বিতীরার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে চাপ বাড়াতে শুরু করে মরিয়া আল-সিব। এ সময় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা গিয়েছে। ওমানের ক্লাবটির স্ট্রাইকারেরাও গোলের সামনে ব্যর্থ হওয়ায় বড় বিপদ হয়নি। এই সময় অন্তত তিন বার দলের পতন আটকেছেন লাচেনপা। ৮০ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ নষ্ট করেন একে লোবা। ছয় গজ দূর থেকে পোস্টের মধ্যে বল রাখতে পারেননি তিনি। দলগত শক্তির বিচারে এই ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফেরা উচিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কারণ গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল আল-সিবই।
আগামী ৩ নভেম্বর কলকাতায় আবার মুখোমুখি হবে দু’দল। পরের পর্বে যেতে হলে ইস্টবেঙ্গলকে সেই ম্যাচ জিততেই হবে। মঙ্গলবার ড্র করে আশা জিইয়ে রাখলেও হাবাসের দলের রাস্তা অনেকটাই কঠিন হয়ে গিয়েছে। কারণ আল সোর্তান ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট এবং আল হুসেন ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে।
