মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে (Kuno National Park) চিতার সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই, একইসঙ্গে বাড়ছে চোরাশিকারের উদ্বেগ। গত জুলাই মাসে কুনোর চিতা ল্যান্ডস্কেপ থেকে ১০টি লেপার্ডের চামড়া উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় ৭ চোরাশিকারিকে। সেখানেই এবার এক রক্তাক্ত, গুরুতর জখম চিতা শাবককে উদ্ধার করল বনদপ্তর। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে এর নেপথ্যে চোরাশিকারিদের হাত নেই তো?
কুনো ন্যাশনাল পার্কের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় মাদি চিতা নিরভার ১৯ মাস বয়সি পুরুষ শাবকটিকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। মধ্যপ্রদেশের মোরেনায় পাহাড়পুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধারের পর কুনোর পশু চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা চলছে তার। চিতাটির অবস্থা বেশ সংকটজনক বলে জানিয়েছেন কুনোর চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট উত্তম শর্মা। তিনি বলেন, ‘আগামী ৭২ ঘণ্টার আগে চিতাটির শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ওর শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে। তবে সেটা কীভাবে হয়েছে, তা বলার সময় এখনও আসেনি।’
গত ২৫ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় মাদি চিতা নিরভার ১৯ মাস বয়সি পুরুষ শাবকটিকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়।
জানা যাচ্ছে, বর্তমানে কুনোতে ৬০টি চিতা রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি শাবকের জন্ম হয়েছে ভারতেই। প্রতিটি চিতার গলায় রেডিও কলার পরিয়ে প্রতি নিয়ত ট্র্যাক করা হয় কর্তৃপক্ষের তরফে। তার পরও কীভাবে শাবকটি জখম হল, তার স্পষ্ট কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আনেনি বনদপ্তর। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্টেট টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স, বন দপ্তরের ডগ স্কোয়াড আর স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্তে নামানো হয়েছে। বড় কোনও জানোয়ারের আঘাতে চিতাটি জখম হয়েছে না কি নেপথ্যে চোরাশিকারিদের হাত রয়েছে, সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফেরে মোদি সরকার। এরপরই সূচনা ‘প্রোজেক্ট চিতা’র। ২০২২ সালে নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোট ১০টি চিতা আনা হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে। পরবর্তী সময়ে নানা দেশ থেকে মোট ২০টি চিতাকে ভারতে আনা হয়েছিল। তখন থেকেই পরিবেশবিদদের নজর ছিল এদিকে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন পরিবেশে মাত্র ৪০ শতাংশ চিতাই বাঁচতে পারে। সেই হিসেবে চিতার নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে ভারত এগিয়ে। এটাই ‘প্রোজেক্ট চিতা’র বড় সাফল্য। এর সঙ্গেই শাবকজন্ম ঘিরে সংখ্যায় আরও বাড়ছে চিতারা। যা আশাপ্রদ। তবে একইসঙ্গে বাড়ছে চোরাশিকারিদের উদ্বেগ।
