জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত প্রায় ৬৯ হাজার প্যাকেট বিড়ি পাচারের মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শাহিন আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ এস এম সাইদুর রাজ্জাক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত আকিজ ও হাসান ব্র্যান্ডের বিড়ি মেহেরপুরে পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর সদর থানার বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল বারাদী গ্রামের সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের ৪১ হাজার ৮০০ প্যাকেট আকিজ বিড়ি, ২৮ হাজার প্যাকেট হাসান বিড়ি এবং বিড়ি পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ অধিকারী বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের পরিদর্শক জহুরুল ইসলাম।
মামলায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তহিদুল ইসলাম, আরাফাত রহমান বিশাল, মেহেরপুর সদর উপজেলার শাহিন আলম ও দৌলতপুরের সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের প্রত্যেককে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি উপস্থিত থাকলেও শাহিন আলম পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠান।
জেএইচআর
