সুস্থ থাকা মানেই কড়া ডায়েট, ক্যালোরি মেপে খাওয়া বা ভোর ৫টায় উঠে এক ঘণ্টার মর্নিং ওয়াক! এই রুটিন শুনলেই অনেকে পিছিয়ে আসেন। তবে সুস্থ থাকতে হলে নিজেকে কড়া নিয়মে বেঁধে ফেলতে হবে, এমনটা নয়। এখন সুস্থ থাকার জন্য মানুষ ঝুঁকছে সহজ, টেকসই অভ্যাসের দিকে। যার পোশাকি নাম ‘লো-এফোর্ট ওয়েলনেস’, অর্থাৎ খুব বেশি কষ্ট না করেই সুস্থতার পথ খুঁজছেন মানুষ।
মুম্বইনিবাসী পুষ্টিবিদ নিকিতা গর্গের কথায়, কঠোরতা নয়, ধারাবাহিকতাই আসল। কঠিন রুটিন মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি আরও বাড়ায়। কাজ, সংসার সামলে এমন অভ্যাস দরকার যা সহজেই রোজ করা যায়। সুস্থ থাকতে হলে রোজের জীবনে ৫টি বদল এনে দেখুন, তা হলেই অনেকটা লাভ পাবেন।
১. মনে করে জল খান
শুধু গ্লাস গুনলেই হবে না। শসা, পুদিনা, আদা, লেবু দেওয়া ইনফিউজ়ড ওয়াটার, ডাবের জল, ঘোল — এগুলি হাইড্রেশনে সাহায্য করে। তাই জল খাওয়ার পাশাপাশি রোজের ডায়েটে এগুলিও যোগ করতে হবে।
২. খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটুন
ভরা পেটে ঘুমোতে যাওয়া চলবে না। খাওয়ার পর হালকা থেকে মাঝারি গতিতে ১০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে, গ্যাস-পেট ফাঁপার সমস্যা কমে ও হজম ভাল হয়। যাঁরা মর্নিং ওয়াক করার সময় পান না, তাঁদের এ অভ্যাস মেনে চলতে হবে। ভারী খাবার খেয়েই হাঁটাহাঁটি করুন মনে করে।
৩. প্রোটিনকে গুরুত্ব দিন
ক্যালোরি কমানোর চেয়ে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করুন রোজের ডায়েটে। প্রোটিন পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়া ও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমায়। দামি কফিতে টাকা খরচ করলেও প্রোটিনকে অনেকেই ‘দামি’ ভাবেন, এই ভাবনা বদলানো দরকার। প্রোটিন পাউডার খেতে হবে না, রোজের খাবার থেকেই প্রোটিনের উৎস খুঁজে নিতে হবে।
৪. সাপ্লিমেন্টের আগে ঘুমকে প্রাধান্য
রাতের রুটিন জটিল নয়। রোজ একই সময়ে ঘুমোনো-ওঠা, ঘুমের ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন বন্ধ করা, ছোট একটা স্কিনকেয়ার রুটিন — এটুকুই ঘুমের মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। রোজ ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমোতে পারলেই শরীরে অনেক বদল আসে।
৫. খাবারে নিষেধ নয়, পরিমাপ বুঝতে হবে
উৎসব বা পার্টিতে ‘এটা খাব না’ না ভেবে, অল্প পরিমাণ খাবার মন দিয়ে খান। এতে অপরাধবোধ ও পরে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা এড়ানো যায়।
আসলে সুস্থ থাকা মানে জীবনকে কঠিন করা নয়, রোজের জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।
