শরতের শেষভাগে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে পঞ্চগড়ের নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে হিমালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বরফে ঢাকা শুভ্র পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো পড়তেই কখনো লাল, কখনো কমলা, আবার কখনো ধূসর রঙে বদলে যাচ্ছে এর রূপ। স্বচ্ছ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। পাহাড়টি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়ায়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর ওপারে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর পিরামিডের মতো চূড়া যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা ছবি। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে সব সময় দেখা মেলে না এই শুভ্র পর্বতশৃঙ্গের। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে পাহাড়টি। কিছুক্ষণ পর আবার হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।
এদিকে পঞ্চগড়ে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত দুই দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তখন এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শীতের আমেজ, ভোরের কুয়াশা আর শিশিরভেজা প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও ভেরসা নদীর তীরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে পাহাড়টি দেখতে ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক পর্যটক। আকাশ মেঘমুক্ত না থাকলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দেখা নাও মিলতে পারে এই পর্বতশৃঙ্গের।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতিবছর তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। পর্যটকদের সুবিধার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিকনিক কর্নার নতুন করে সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পাশাপাশি মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।