আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গাঁধীর স্মৃতিকথা ‘বিলঙ্গিং: এ জার্নি অফ লভ’। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইটালিতে তাঁর শৈশব, ভারতের সঙ্গে আত্মিক যোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ও জীবনের নানা ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের খতিয়ান রয়েছে এই বইটিতে।
বিশ্ব জুড়ে এই বই প্রকাশিত হচ্ছে অ্যালফ্রেড এ নপ প্রকাশনাসংস্থা থেকে। তবে ভারতে প্রকাশনার স্বত্ব নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মূল খসড়ার বেশ কিছু সম্পাদনা ও পরিমার্জন নিয়ে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সনিয়ার প্রতিনিধিরা পিছিয়ে আসেন। শেষপর্যন্ত হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়ার হাত ধরেই আগামী ১০ নভেম্বর সনিয়ার আত্মজীবনীর ভারতীয় সংস্করণ বাজারে আসছে।
এদিকে বইটি প্রকাশ্যে আসার আগেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সনিয়া। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এই বই ঘিরে একটি ‘তামাশা’ তৈরি হওয়া অনিবার্য। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স-এ আত্মপ্রকাশ করে একটি ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, বহু বছর ধরে তাঁকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তার একটি বড় অংশই হয় মনগড়া না হয় অতিরঞ্জিত। অন্যের কলমে নিজের জীবনকে সংজ্ঞায়িত হতে না দিয়ে, আপন ভাষায় বাস্তব সত্যকে সকলের সামনে তুলে ধরতেই এই বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বইটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ ও পাঠকদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে বিষয়েও আগাম আলোকপাত করেছেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘‘এই বই পড়ার পর অনেকেই আমাকে নিয়ে নিজেদের পুরনো ধারণা বদলাতে পারেন। কারও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হতে পারে, আবার কারও চোখে আমার ভাবমূর্তি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।’’ তবে বই লেখার ক্ষেত্রে এই ধরনের সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া যে অনিবার্য, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগে অন্যদের ক্ষেত্রে হয়েছে। এ বার আমার পালা।’’
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের এই বর্ণনায় সনিয়া ছুঁয়ে গিয়েছেন তাঁর স্বামী তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিককার স্মৃতিও। রাজীব গাঁধীকে যখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই সময়ে তিনি যে ওই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ টানাপড়েন ও জল্পনা পেরিয়ে খসড়া থেকে মলাটবন্দি হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছোনোর অপেক্ষায় রয়েছে এই আত্মজীবনী। আগামী দিনে এই বই যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলবে, তা এখন থেকেই স্পষ্ট।
