লন্ডনের আলো ঝলমলে মঞ্চ। চারদিকে তারকাদের ভিড়। সবার চোখ তখন বিজয়ীর নামের দিকে। খাম খোলার পরই গর্জে উঠল পুরো মিলনায়তন-‘হ্যারি! হ্যারি! হ্যারি!’ দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যালন ডি’অর জিতে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন। আবেগঘন মুহূর্তে এই স্বীকৃতি উৎসর্গ করলেন সতীর্থ, কোচ ও নিজের দীর্ঘ ফুটবলযাত্রার সঙ্গীদের।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে কেইনের হাতে তুলে দেয়া হয় এই পুরস্কার। মঞ্চে উঠে সোনালি ট্রফিটি হাতে নিলেন হ্যারি কেইন। কিছুক্ষণ যেন কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা স্ট্রাইকার। এরপর বললেন, ‘ওয়াও, আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ।’
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন কেইন। গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম ইংলিশ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।
আরও পড়ুন
টটেনহ্যামের একাডেমি থেকে উঠে আসা সেই তরুণ আজ ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানগুলোর একটির মালিক। আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা ফ্রান্স ফুটবলকে ধন্যবাদ জানান কেইন। লন্ডনে অনুষ্ঠান আয়োজন করায় তার আনন্দ ছিল আরও বেশি।
‘মনে হচ্ছে, লন্ডন আমার জন্য শুভ বার্তা নিয়ে এসেছে,’ বলেন তিনি।
কেইনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অসাধারণ একটি মৌসুম। ৭৩ গোল, বুন্দেসলিগার শিরোপা এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি।
এরপর তিনি বায়ার্ন মিউনিখের কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন সেই সতীর্থদের কথা, যারা অনুশীলনে তাকে সেরাটা দিতে বাধ্য করেন। আর স্মরণ করেন তার কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির কথা, যিনি হয়তো তখনও হাসপাতালেই ছিলেন।
কেইন বলেন, ‘আমার বায়ার্ন মিউনিখ সতীর্থদের বলতে চাই, আজ রাতে তোমাদের কয়েকজন এখানে আছো। তোমাদের ছাড়া এটি মোটেও সম্ভব হতো না। তোমরা যেভাবে আমাকে পুশ করো, আমরা যেভাবে প্রতিযোগিতা করি-তা আমাকে একজন ভালো খেলোয়াড়ে পরিণত করে। এটি আমাকে আরও উন্নত হওয়ার প্রেরণা দেয়। তাই তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। আর ভিনিকে বলব, আমি জানি তিনি বাড়িতে আছেন, মনে হয় এখনো হাসপাতালেই আছেন-আপনার দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করি। আশা করি এই আনন্দ আপনাকে খানিকটা শক্তি দেবে!’
ইংল্যান্ড। এই শব্দটি উচ্চারণ করার আগে তিনি খানিকটা থামলেন।
তিনি আরও বলেন,‘আমার সব ইংল্যান্ড সতীর্থদের উদ্দেশে বলছি… আমাদের বছরটা বিশেষ ছিল। বছরটা নিখুঁত না হলেও, আমাদের অনেক সুন্দর মুহূর্ত ছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে চমৎকার বন্ধন ও ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম। যেভাবে আমরা খেলেছি, যেভাবে অনুশীলন করেছি-তোমাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং অধিনায়কত্ব করা আমার জন্য সত্যিই এক বিশাল সম্মানের বিষয় ছিল। তাই এই ট্রফিটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের সবার।’
থমাস টুখেলের নাম নেওয়ার পর তিনি টটেনহ্যামের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি টটেনহ্যাম হটস্পারকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। টটেনহ্যাম ছাড়া আমি আজ যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। ১১ বছর বয়স থেকে আমি সেখানে ছিলাম। সব দিকনির্দেশনা এবং কোচদের সহযোগিতায় আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। সেই পুরো যাত্রার ভালো-মন্দ মুহূর্তগুলো না থাকলে, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’
পাপ্পু/
