অবশেষে মুখ খুললেন রশ্মিকা মন্দানা। ‘কফি উইথ কর্ণ’-এ এসেছিলেন তিনি ও বিজয় দেবরকোন্ডা। তারকাদম্পতির সাক্ষাৎকার নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। নেটাগরিকেরা দাবি করেন, রশ্মিকা খুবই ভালবাসেন বিজয়কে। কিন্তু বিজয় শুধু নিজেকেই ভালবাসেন। নানা রকমের মিম ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আবার এ-ও বলেন যে, রশ্মিকা প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। অবিলম্বে এই সম্পর্ক থেকে তাঁর বেরিয়ে আসা উচিত। এ সবের মধ্যে অবশেষে নিজের মত স্পষ্ট করলেন তেলুগু অভিনেত্রী।
দীর্ঘ বিবৃতির প্রথমেই তিনি লেখেন, “যাঁরা গভীর ভাবে ভালবাসতে জানেন, আর যাঁরা চিরকাল তিক্ততায় ডুবে থাকতে চান, সমাজমাধ্যমে এমন প্রিয় মানুষের উদ্দেশে আমাকে আর বিজ্জুকে নিয়ে দু-চার কথা বলছি।”
রশ্মিকা ও বিজয়ের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে নানা লোকে নানা মত প্রকাশ করেছেন। তা নিয়ে অভিনেত্রীর মন্তব্য, “প্রত্যেকেরই নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার আছে। কখনও কখনও অন্যদের মতামত পড়তে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে আমার ভালও লাগে। কিন্তু আমাদের সাক্ষাৎকারকে ঘিরে এখন যে উন্মাদনা চলছে, তা দেখে মনে হচ্ছে না যে, মানুষ শুধু নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন। বরং মনে হচ্ছে, ক্ষুব্ধ জনতা কাউকে নিশানা করে নিজেদের রাগ উগরে দিতে চাইছে।” সেই সঙ্গে তিনি লেখেন, “আমি এই কথাগুলো লিখছি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে, যাঁরা ভালবাসায় বিশ্বাস করেন। আমি চাই, প্রত্যেকে যেন নিজের মতো করে ভালবাসার মানুষটিকে খুঁজে পান। আমাদের দু’জনেরই প্রোফাইলে একের পর এক মতামত, মন্তব্য এবং অযাচিত উপদেশের বন্যা বয়ে গিয়েছে, যার কোনও প্রয়োজনই ছিল না।”
রশ্মিকার বিবৃতি।
কেন এই দীর্ঘ বিবৃতি দিচ্ছেন, সেই কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষজন যে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আমাদের আক্রমণ করেছেন, তা দেখে আমি সত্যিই কিছুটা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমি পুরো বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি। নিজের জীবন সম্পর্কে আমার ছোট্ট উপলব্ধিটুকু আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।”
‘কফি উইথ কর্ণ’-এ উঠে আসে রশ্মিকা ১০০ বার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন বিজয়কে। অন্য দিকে বিজয় নিজেই জানান, তিনি প্রস্তাব দিতে জানেন না। বরং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে তিনি বেশ কিছুটা সময় নিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে রশ্মিকার বক্তব্য, “আমাদের কেউই কোনও রাজকীয় বিয়ের প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম না।”
স্পষ্ট করে রশ্মিকা বলেন, “আমি ঠিক কী চাই, সেটা আমার জানা ছিল। আর ও জীবনের বাস্তব দিকগুলো নিয়ে ভেবেচিন্তে, নিশ্চিত হয়ে এগোতে চেয়েছিল। দুটোই ঠিক। এতে আমাদের ভালবাসার কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমি আবেগ দিয়ে সব কিছু অনুভব করি, আর ও চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের জীবনে একে অপরের এই বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রয়োজন। আমাদের কাছে বিয়ে কখনওই প্রস্তাব দেওয়া, হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ওগুলো বিয়ের বাহ্যিক সাজসজ্জা। আমাদের কাছে বিয়ের অর্থ ছিল একসঙ্গে একটা জীবন গড়ে তোলা, একসঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা। আর আমার মনে হয়, এখনও পর্যন্ত আমরা সেটা খুব সুন্দর ভাবেই করতে পেরেছি।”
সাক্ষাৎকারটি দেখে অনেকেই দাবি করেছিলেন যে, বিজয়কে নিয়ে রীতিমতো পাগল রশ্মিকা। অভিনেত্রীর কথায়, “হ্যাঁ, আমি আমার মানুষটাকে নিয়ে ভীষণ পাগল! কিন্তু এটা কবে থেকে খারাপ বিষয় হয়ে গেল? আমি যে মানুষটিকে বিয়ে করছি, তাঁকে গভীর ভাবে ভালই না যদি বাসি, তা হলে তাঁকে বিয়ে কেন করতে যাব? সারাজীবন ও-ই তো আমার সঙ্গী হয়ে থাকবে। সবেতেই ও আমার বন্ধু হয়ে পাশে থাকবে। ও-ই হবে আমার সন্তানের বাবা। ওর সঙ্গেই আমি বুড়ো হতে চাই।”
কিছুটা কড়া ভাবেই রশ্মিকা লিখেছেন, “আমরা দু’জনেই নিজেদের শর্তে, নিজেদের সিদ্ধান্তে এবং নিজেদের পরিশ্রমে জীবন গড়ে তুলেছি। আমরা দু’জনেই বুদ্ধিমান, স্বনির্ভর এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিণত মানুষ। নিজেদের জীবন কী ভাবে কাটাব, কাকে জীবনের সঙ্গী হিসাবে বেছে নেব, সেই স্বাধীনতা এবং সুযোগ আমাদের রয়েছে।”
বিজয়ের ভালবাসা নিয়ে রশ্মিকা বলেন, “আমি সুখী। আমি তৃপ্ত। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি।” কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন আমার হাড় ভাঙে, তখন আপনারা আমার পাশে থাকেন না। ও থাকে। প্রতি মাসে যখন আমার পেটে ব্যথা হয়, তখন আপনারা আমার পাশে থাকেন না। ও থাকে। রাতে যখন হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় এবং আমি উদ্বেগে ভুগি, তখন আপনারা আমার পাশে থাকেন না। ও থাকে। আর যখন আমার মনখারাপ হয়, আমার পরামর্শের প্রয়োজন হয়, সমর্থন দরকার হয়—তখন আপনারা আমার পাশে থাকেন না, আগেও ছিলেন না। কিন্তু ও থেকেছে, এখনও রয়েছে।”
বিজয়ের সঙ্গেই তিনি সুখী আছেন, বুঝিয়ে দেন রশ্মিকা। তাই বলেন, “দয়া করে, আমাকে বা ওকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি মন থেকে চাই এবং প্রার্থনা করি, আপনারাও যেন এমন কাউকে খুঁজে পান, যাঁকে আপনারা ভালবাসবেন এবং যিনি আপনাদের ঠিক ততটাই গভীর ভাবে ভালবাসবেন।”
এর পরেই রশ্মিকার আবেদন, তাঁর পরিবার নিয়ে যেন কিছু বলা না হয়। নারীবাদের কথাও টেনে এনেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাকে নিয়ে যত খুশি খারাপ কথা বলুন। আমি সহ্য করতে পারব। কিন্তু আমার পরিবারকে না চিনে, তাদের সম্পর্কে না জেনে কথা বলা? এটা নারীবাদ নয়। এটা নারীবাদের মুখোশ পরে কাউকে হেনস্থা করা। নারীবাদ কখনওই অন্য কাউকে ছোট করে দেখিয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য নয়, সে পুরুষই হোন বা নারী।”
“নারীবাদের আসল অর্থ, নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এবং সেই জীবনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া,” বলেন ‘পুষ্পা’-খ্যাত অভিনেত্রী।
রশ্মিকার পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ খোলেন বিজয়ও। তিনি লেখেন, “যাঁরা আমাদের নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের সবাইকে জানিয়ে রাখি, আমরা দুজনেই ভীষণ সুখী। আমি সত্যিই ভাগ্যবান। যদি পৃথিবীর সবার বিরুদ্ধে গিয়েও আমাকে আর ওকে একসঙ্গে থাকতে হয়, তবুও তা-ই হবে। যাঁরা ভালবাসাকে সম্মান করেন এবং সহজ-সরল ভাবে সুখে বেঁচে থাকাকে সমর্থন করেন, তাঁদের সবাইকে অনেক ভালবাসা।” তার পরেই কোনও রাখঢাক না রেখেই বিজয় লিখেছেন, “একটুও দয়া বা সম্মান দেখানোর ইচ্ছা বর্জন করে বলছি—বাকি সবাই জাহান্নমে যেতে পারে!” রশ্মিকা ও বিজয় তাঁদের সোহাগী মুহূর্তও সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছেন রশ্মিকা ও বিজয়।
