বৈঠকটিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের একটি নিরাপত্তা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবারের বৈঠকটিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।
এ বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন এই বৈঠকে একত্রিত হয়েছিলেন।
পাকিস্তানের প্রস্তাবে ও ইরানের সম্মতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তাসনিম লিখেছে, আঞ্চলিক দেশগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে উপলব্ধি করছে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও তার ধারাবাহিকতার পরিণতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের জনগণকে সহায়তা করার প্রচেষ্টার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাসনিম জানিয়েছে।
আল অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, বৈঠকের পর ইরানের নিরাপত্তা প্রধান রেজায়ি মক্কা জোটভুক্ত তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হওয়া আলোচনাকে ‘খুবই ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
রেজায়ি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে বলেছেন, “আমার ধারণা, এই অঞ্চলে নতুন একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আলোচনাগুলোর মধ্যে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পরিবেশ অনুভব করেছি।”
সৌদি আরব জানিয়েছে, ‘সামরিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য’ আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা এই সফরের উদ্দেশ্য।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শেষে চার দেশ ‘শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে’ এ ধরনের আলোজনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।
এই আলোচনা ছিল ইরান এবং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
বৈঠকের পর রেজায়িসহ এতে অংশ নেওয়া তিন দেশের প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও উপস্থিত ছিলেন।
পেজেশকিয়ান সফররত প্রতিনিধি দলকে বলেছেন, “আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এমন যে কোনো বোঝাপড়াকে সমর্থন করে ইরান। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতেও ইরান প্রস্তুত।”
