দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১১ জন এবং হাম ও হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে এটি চলতি মৌসুমে একদিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে ২ হাজার ৭১ জন এবং হাম ও হামের উপসর্গে ১ হাজার ২৯৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু
বুলেটিনে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন।
মৃত্যুর মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৫৫ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন দুজন করে।
হাম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ৬ জন এবং নিশ্চিত হামে একজন।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সন্দেহজনক হামে চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২ জন করে এবং ঢাকা ও বরিশালে ১ জন করে মারা গেছেন।
এ সময়ে সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ২৩২ জন। বিভাগের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫০৪ জন এবং চট্টগ্রামে ২৪৮ জন শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জন, যা শুধু ঢাকা বিভাগে।
একই সময়ে হাম রোগীদের মধ্যে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৪ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ হাজার ৫৪১ জন।
এ সময়ে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৫ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। একই সময়ে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯০ জন।
বিআলো/শিলি