২০১৮ সালে বেঙ্গালুরুতে প্রচারে গিয়ে অমিত শাহকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। আট বছরের পুরনো সেই মামলায় রাহুল গাঁধীকে বেকসুর খালাস করল সুলতানপুরের সাংসদ/বিধায়ক কোর্ট। জানাল, শাহকে করা রাহুলের ওই মন্তব্য অবমাননাকর নয়। সোমবার রায়ঘোষণার সময়ে কোর্টে হাজির ছিলেন রাহুল। পথে তাঁর কনভয়ের কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি।
২০১৮ সালে অমিত শাহ যখন বিজেপি সভাপতি ছিলেন, তখন তাঁকে জড়িয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল রাহুলের বিরুদ্ধে। কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা সেই মন্তব্য করেছিল। সরকারি আইনজীবী কাশীপ্রসাদ শুক্ল এএনআই-কে বলেন, ‘‘রাহুল তাঁকে (শাহ) খুনের মামলায় অভিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন।’’ তা নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ অগস্ট রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র। তিনি সুলতানপুর জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন।
বিজয়ের করা সেই মামলা আট বছর ধরে চলেছে। ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রাহুল। জামিন নেন তিনি। ২০২৪ সালে জুলাই মাসে রাহুলের বয়ান রেকর্ড করা হয়। তার পরে বেশ কয়েক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৬ সালের মার্চে রাহুলের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়ে আবেদন জমা পড়ে কোর্টে। মে মাসে ট্রায়াল কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জেলা কোর্ট এবং পরে এলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলা হয়। দুই আদালতেই আবেদন খারিজ হয়।
২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর এই মামলায় সওয়াল শুরু হয়। ১২ অক্টোবর সওয়াল পর্ব শেষ হয়। অতিরিক্ত সিভিল বিচারক শুভম বর্মা প্রথমে জানিয়েছিলেন, ১৩ অক্টোবর রায়ঘোষণা করা হবে। পরে ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। বিচারক বর্মা রাহুলকে বেকসুর খালাস করেন।
সোমবার সকালে লখনউয়ের চৌধরী চরণ সিংহ বিমানবন্দরে নামেন রাহুল। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বহু কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তার পরেই রাহুলের কনভয় অনুসরণ করে সেই নেতারাও ১৩৫ কিলোমিটার দূরে সুলতানপুরের উদ্দেশে রওনা দেন বলে খবর। সুলতানপুর পুলিশের সুপার জানিয়েছেন, রাহুলের কনভয় অনুসরণ করে যাচ্ছিল কংগ্রেস নেতাদের চারটি গাড়ি। সেই গাড়িগুলি তাঁদের নিজস্ব। সূত্রের খবর, রাহুলের কনভয়ে থাকা মোট পাঁচটি গাড়ি পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তবে রাহুলের গাড়ি অক্ষত ছিল। লখনউ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সোমবার সকালে দুর্ঘটনা হয়েছে।
