বঙ্গোপসাগরে অবৈধ কাঠবডি ট্রলিংয়ের মাধ্যমে মাছ আহরণ বন্ধের দাবিতে বাগেরহাটে মানববন্ধন করেছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ট্রলিংযানে অতিক্ষুদ্র ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা ট্রলার মালিক ও জেলে পরিবারের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মৎস্যজীবী ইব্রাহীম আমানী, জেলে আক্কাস আলী, সাইদুল মোল্লা, নজরুল ইসলাম ও আশারেফ মোল্লাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণকারী কিছু কাঠবডি ট্রলিংযানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বলে তাদের অভিযোগ। এসব ট্রলিংযানে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করায় ছোট-বড় নানা আকারের মাছ একসঙ্গে ধরা পড়ছে।
বিক্রির উপযোগী মাছ বাছাই করার পর অবশিষ্ট মাছ ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। জেলেরা বলেন, এ ধরনের ট্রলিংয়ের কারণে সাগরে ৩২৪ প্রজাতির মাছের পোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মাছের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তারা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাধারণ জেলেরা তুলনামূলক বড় ফাঁসের জাল ব্যবহার করে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করেন।
অন্যদিকে ট্রলিংযানে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা ও ছোট মাছও ধরা পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, তারা সরকারের মৎস্য আহরণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা মেনে ইলিশ সংরক্ষণে সহযোগিতা করে থাকেন। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলার মালিক অবৈধভাবে মাছ ধরছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জেলেদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদও ঝুঁকিতে পড়বে।
বক্তারা অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা, নিয়মিত নজরদারি এবং ট্রলিংয়ের মাধ্যমে আহরিত মাছ বিক্রি হয় এমন বাজারেও অভিযান চালানোর দাবি জানান।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ কমে গেলে সরকারও রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং সাগরের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিআলো/আমিনা