ইসরাইলে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; তাঁরা রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করা হয়।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই। ফলে সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আরব দলগুলোর অবস্থান সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ওই হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া সামরিক বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অব্যাহতি, রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তানীতিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইসরাইলের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কও তাঁর সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে শুধু পার্লামেন্টের আসনবণ্টন নয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সরকার অব্যাহত থাকবে কি না এবং নতুন সরকার গঠনে কোন দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নির্ধারিত হবে।
