সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৪ অপরাহ্ন
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পর দেশটিতে এটি প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, তার সরকারের যুদ্ধনীতি এবং ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রায় ১৯ বছর দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৩ সালের হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা, গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থী অবস্থানের প্রভাব আরও দৃঢ় হয়েছে। দেশটির বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো দল বা জোটের এককভাবে সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের সমর্থনও তার প্রচারের অন্যতম বিষয়।
রোববার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। আইজেনকোটের দাবি, জনগণ যাকেই নেতা হিসেবে বেছে নিক, ট্রাম্প তার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের দুজনেরই সমালোচনা রয়েছে। পশ্চিমা কয়েকটি দেশ তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। জনমত জরিপে বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন জিউইশ পাওয়ার পার্টির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট কেউই সরকার গঠনের নিশ্চিত অবস্থানে নেই। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের আসনসংখ্যা ১২০। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর আবারও নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
