Published on
:
2 min read
রেকর্ড দাম থেকে অনেকটাই নেমেছে রুপো। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) প্রতি কেজি সিলভারের দাম উঠেছিল ৪ লক্ষ ২০ হাজার ৪৮ টাকায়। সেখান থেকে দর কমেছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। অর্থাৎ বছরের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় রুপোর দাম অর্ধেকেরও বেশি নেমে এসেছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) MCX-এ রুপোর ফিউচার্সের দাম নেমে এসেছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৮০০ টাকায়। যা ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ MCX-এ রুপোর দাম ছিল প্রতি কেজি প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে ফিউচার্সের দর ও খুচরো বাজারে রুপো কেনার দাম এক নয়।
টানা এই পতনের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রুপোর দাম কমায় কি এখন লগ্নির সুযোগ তৈরি হয়েছে?
কেন কমছে রুপোর দাম?
রুপোর দামে এই পতনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে আমেরিকার ফেডারেল রিজ়ার্ভ সুদের হার দীর্ঘদিন চড়া রাখতে পারে, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে সুদ না দেওয়া সোনা ও রুপোর মতো সম্পদে লগ্নির আকর্ষণ কমে। পাশাপাশি ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং বন্ডের ইল্ড চড়া থাকায় মূল্যবান ধাতুর উপর চাপ তৈরি হয়েছে। রুপোর ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য শিল্পে এর ব্যবহার থাকায় শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা কমার আশঙ্কাও দামের উপর প্রভাব ফেলছে।
কোন দিকে যেতে পারে দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে রুপোর দামে ওঠানামা চলতে পারে। তাই দাম অনেকটা কমেছে বলেই এখনই বড় অঙ্কের লগ্নি করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাজারে স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা জরুরি।
বোনানজ়া পোর্টফোলিও-র সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট নির্পেন্দ্র যাদব বলেছেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে রুপোর দামে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। সাম্প্রতিক বড় পতন মানেই যে দাম তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে, তা নয়। নতুন করে লগ্নি বাড়ানোর আগে দাম স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।’
তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ, বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শিল্পে রুপোর চাহিদা এই ধাতুর দামকে সাপোর্ট জোগাতে পারে। তবে প্রযুক্তির পরিবর্তন, রুপোর বদলে অন্য উপাদানের ব্যবহার এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি না করে ধাপে ধাপে কেনার কথা ভাবা যেতে পারে। এতে বাজারের সর্বনিম্ন দর ধরার চেষ্টা না করেও বিভিন্ন দামে কেনার সুযোগ থাকে। তবে যাঁদের হাতে ইতিমধ্যেই রুপো রয়েছে, তাঁদেরও মোট লগ্নির কতটা এই ধাতুতে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সোনার তুলনায় রুপোর দামে ওঠানামা বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
এখন রুপো কেনা উচিত?
তাই রুপোর দাম কমায় দীর্ঘমেয়াদি লগ্নিকারীদের কাছে সুযোগ তৈরি হতে পারে ঠিকই, কিন্তু আরও পতনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শুধুমাত্র অতীতের সর্বোচ্চ দামের সঙ্গে তুলনা করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
