ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনাবাহিনী প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। সীমান্তে চীনের কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বসিরাম সিরাম অভিযোগ করেন, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বিভিন্ন এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তিনি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
সিরামের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। ইটানগর থেকে নাচো হয়ে প্রতিনিধিদলটি লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা।
সিরাম দাবি করেন, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়েছেন। পাহাড়ের উচু এলাকাগুলোতে তাদের অবস্থান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চীনা সেনারা ইতোমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চলে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা অবস্থান করছে। পাহাড়ের চূড়ায় তাদের দেখা যায়, আর আমরা রয়েছি নিচে।’
তবে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশের এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে গত জুনে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি স্থানীয় সংগঠন অভিযোগ করেছিল, তাকসিংয়ের কাছে চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টির একটি প্রতিনিধিদলও দাবি করে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় টহল দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু চীনের ৫০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের অভিযোগ নাকচ করেছিলেন। তবে সীমান্তের উচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বসিরাম সিরাম বলেন, সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতা না ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এমন অভিযোগ তুলছেন কেন? তার মতে, এসব অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন।
সিরাম আরও দাবি করেন, আসাফিলাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।
একদিকে কংগ্রেস নেতার অনুপ্রবেশের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তা প্রত্যাখ্যান এবং এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
