Published on
:
3 min read
দেশের অপরাধ দুনিয়ায় চর্চিত কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে ঘিরে সুরক্ষার কড়াকড়ি আরও এক ধাপ বাড়াল প্রশাসন। কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে গুজরাটের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলের হাই-সিকিউরিটি ব্লক ‘দোসৌ খোলি’-তে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লরেন্স যাতে কোনও ভাবেই অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দুষ্কর্মের কোনও ছক যাতে কষতে না পারে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ বলে জেল সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে আহমেদাবাদের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং বিশেষ ব্লকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জেলের অভ্যন্তরে তার যোগাযোগের সমস্ত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং তার অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের ডানা ছাঁটতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এক নজরে
জেলের স্থানান্তর: কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে গুজরাটের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলের অত্যন্ত সুরক্ষিত 'দোসৌ খোলি' বা ২০০ নম্বর ব্লকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানান্তরের কারণ: অন্য বন্দি ও বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তার সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে এবং অপরাধের ছক কষা আটকাতেই কারা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ।
'দোসৌ খোলি' ব্লকের নিরাপত্তা: এটি অত্যন্ত হাই-সিকিউরিটি ব্লক, যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও ২০০৮ সালের আহমেদাবাদ বিস্ফোরণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মতো অন্তত ২০০ জন বন্দিকে রাখা হয়।
সেলের বিবরণ: লরেন্সকে প্রায় ৭.৫ ফুট বাই ১১ ফুট মাপের একটি ছোট সেলে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বন্দিদের মেলামেশা রুখতে ব্লকটিকে ৫০ জন করে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা: অতীতে জেল থেকে হুমকি ফোন বা সাক্ষাৎকার দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানি ও আইনজীবীর সঙ্গে সীমিত আলোচনা ছাড়া তার সব যোগাযোগের পথ বন্ধ।
গ্যাংয়ের বর্তমান কার্যকলাপ: লরেন্স জেলে সম্পূর্ণ কোণঠাসা থাকলেও, বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা তার সহযোগীরা গ্যাংয়ের দৈনন্দিন কাজ ও অর্থ জোগানের দিকটি সামলাচ্ছে। সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাতেও এই গ্যাংয়ের যোগ মিলেছে।
‘দোসৌ খোলি’ ব্লকের কড়া সুরক্ষা
গোয়েন্দা ও জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোইকে সবরমতী জেলের ‘দোসৌ খোলি’ (Block 200) বা ২০০ নম্বর ব্লকে রাখা হয়েছে। এটি জেলের একটি অত্যন্ত হাই সিকিউরিটি ব্লক, যেখানে প্রধানত সন্ত্রাসবাদ ও নৃশংস অপরাধে অভিযুক্ত অন্তত ২০০ বন্দি রয়েছে। এমনকী, ২০০৮ সালের আহমেদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও এই একই ব্লকে বন্দি রয়েছে।
সূত্রের খবর, লরেন্সকে রাখা হয়েছে প্রায় ৭.৫ ফুট বাই ১১ ফুট মাপে একটি ছোট সেলে। জেলের এই ব্লকটিকে চারটি আলাদা ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৫০ জন করে বন্দিকে রাখা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— বন্দিদের একে অপরের সেলে যাতায়াত করতে না পারে। অর্থাৎ তাদের মেলামেশা পুরোপুরি বন্ধ করে তাদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বা আইসোলেশনে রাখা।
যোগাযোগের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা
অতীতে তিহাড় জেল বা পাঞ্জাবের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকার সময় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার জেল থেকে হুমকি ফোন করা, অডিও-ভিডিয়ো বার্তা ছড়ানো, এমনকী সাক্ষাৎকার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। তবে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, গত দুই বছর ধরে জেলবন্দি লরেন্সের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও ফোন বা সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি।
বর্তমানে জেলের বাইরে তার একমাত্র যোগাযোগ বলতে কেবল ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে আইনি কৌশল নিয়ে সীমিত আলোচনা। তা সত্ত্বেও, জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে তাকে কঠোরতম পাহারায় রেখে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তার যে কোনও উপায়ে যোগাযোগের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে চাইছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
বিদেশ থেকে চলছে অপরাধ সাম্রাজ্য
যদিও জেলের অন্দরে লরেন্স বিষ্ণোইকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, তবুও তার অপরাধ সিন্ডিকেট যে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়নি, সেই বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন গোয়েন্দারা। বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এই চক্রের দৈনন্দিন পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানের কাজ সামলাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ সামনে আসায় নতুন করে তৎপর পুলিশ।
সবমিলিয়ে, লরেন্সের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিকে সবরমতী জেলের এই কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সেলে আটকে রেখে দেশের অপরাধ জগতের অশুভ চক্রকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন।
FAQ
লরেন্স বিষ্ণোইকে বর্তমানে কোন জেলের কোন ব্লকে রাখা হয়েছে?
লরেন্স বিষ্ণোইকে গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত সবরমতী সেন্ট্রাল জেলের হাই-সিকিউরিটি ব্লক 'দোসৌ খোলি' বা ২০০ নম্বর ব্লকে রাখা হয়েছে।
তাকে এই বিশেষ হাই-সিকিউরিটি ব্লকে সরানোর মূল কারণ কী?
জেলের ভেতর থেকে সে যাতে অন্য কোনো বন্দি বা বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নতুন করে অপরাধের ছক কষতে না পারে, সেই অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতেই তাকে এই ব্লকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
'দোসৌ খোলি' ব্লকের বন্দি ব্যবস্থাপনা কেমন?
এই ব্লকে মূলত সন্ত্রাসবাদী ও ভয়ংকর অপরাধীদের রাখা হয়। ২০০ জন বন্দিকে ৫০ জন করে চারটি আলাদা ভাগে রাখা হয়।
বর্তমানে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে লরেন্সের যোগাযোগের কোনও উপায় রয়েছে কি?
না, সরাসরি কোনো উপায় নেই। জেলের বাইরে তার একমাত্র যোগাযোগ বলতে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে আইনি বিষয়ে খুব সীমিত আলোচনা।
লরেন্স জেলে কড়া পাহারায় থাকা সত্ত্বেও তার গ্যাং কী ভাবে সক্রিয় রয়েছে?
বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা লরেন্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বর্তমানে তার অপরাধ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে এবং অপরাধের পরিকল্পনা ও অর্থের জোগান তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে।
