সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পে অংশ নেওয়া ২২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছে, যারা বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিকেএসপিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সফলভাবে শেষ হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যার পর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানের আগে প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত খুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উৎসাহ দেন। এ সময় বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ফুটবল মাঠে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও বিকেএসপির বালক এবং বালিকা ফুটবলারদের মধ্যকার পৃথক প্রীতি ম্যাচ উপভোগ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াবান্ধব বর্তমান সরকারের “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” স্লোগানের আওতায় তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে বাছাই করা প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে তরুণ খেলোয়াড়েরা নিজেদের ক্রীড়া প্রতিভার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারবে।
তিনি দেশব্যাপী যুব সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে মাদকমুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে মোট ২২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। তাঁদের মধ্য থেকে ৪০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এই আবাসিক ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য সম্ভাবনাময় খুদে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটানো, দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা। বিকেএসপির প্রশিক্ষণ পরিবেশ ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়েরা ক্রীড়া নৈপুণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দলগত চেতনা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হলে এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয় নোট: সোর্স কপিতে “আজ সন্ধ্যার পর” অনুষ্ঠান হওয়ার কথা আছে এবং তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ দেওয়া আছে; প্রকাশের আগে তারিখটি মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
বিআলো/শিলি