আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা সময় মনে হয়েছিল, ক্রিকেট কেরিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে প্রায় দু’বছর ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল দেবদত্ত পাড়িকলকে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই কঠিন সময়কে জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছেন ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ব্যাটার। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে ফের ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফিরেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে লিঙ্কনে ভারত এ দলের হয়ে ১৯৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন পাড়িকল।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দুই টেস্টের সিরিজের আগে নিজের অসুস্থতা এবং প্রত্যাবর্তনের লড়াই নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাড়িকল জানিয়েছেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ।
তাঁর কথায়, “আমার মনে হয়েছিল, সম্ভবত আমার ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ হতে চলেছে। ভারতে দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে থাকলে মনে হয়, বাকিরা যেন অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। একটা মরশুম মিস করলেও এমন অনুভূতি হয়। প্রায় দু’বছর নিজের সেরা ছন্দে না থাকতে পারাটা আমার কাছে অত্যন্ত কঠিন ছিল।”
শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার কারণে আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা লেগেছিল পাড়িকলের। তিনি বলেন, “একটা সময় মনে হয়েছিল, এই পরিস্থিতি থেকে হয়তো আর বেরিয়ে আসতে পারব না। এটা এখনও পর্যন্ত আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন আমার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে।”
তবে এই কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পাড়িকল। চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ এবং অন্যান্য সহায়তাকারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁদের সাহায্যেই আবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে পারফর্ম করার মতো জায়গায় ফিরতে পেরেছেন।
অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরার পর এখন নিজের ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন পাড়িকল। নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে লিঙ্কনে তাঁর ১৯৯ রানের ইনিংস সেই প্রত্যাবর্তনকেই আরও জোরালো করেছে। দ্বিশতরান থেকে মাত্র এক রান দূরে থামতে হয় তাঁকে। খারাপ আলোর কারণে ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধেও ভারত এ দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যাটিং আরও মজবুত করার চেষ্টা করছেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার।
পাড়িকলের টেস্ট কেরিয়ারেও রয়েছে নানা ওঠাপড়া। পার্থে টেস্ট অভিষেকের সময় নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। টেকনিক ও মানসিক প্রস্তুতি, দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি অনুভব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের খেলায় উন্নতি করার দিকে মন দিয়েছেন তিনি। সিনিয়র ক্রিকেটার কে এল রাহুলের কাছ থেকে পাওয়া ধারাবাহিক উন্নতির পরামর্শও তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারে জায়গা পাওয়ার লড়াইও যথেষ্ট কঠিন। সাই সুদর্শনের মতো ক্রিকেটাররাও জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দাবিদার। তবে এই প্রতিযোগিতাকে চাপ হিসেবে না দেখে নিজেকে আরও উন্নত করার অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখছেন পাডিক্কাল।
লিস্ট এ ক্রিকেট এবং আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা আগেই প্রমাণ করেছেন তিনি। এবার লাল বলের ক্রিকেটেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় দলের হয়ে আরও সুযোগ পাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন পাড়িকল। নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ, বাতাস এবং সুইং বোলারদের মোকাবিলা করার জন্য নিজেকে তৈরি করছেন তিনি। গত বছর ইংল্যান্ড সফরে সুযোগ না পাওয়া তাঁর কাছে হতাশার ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়াকে নিজের লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন তিনি।
একসময় যে ক্রিকেটার মনে করেছিলেন, তাঁর কেরিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে, তিনিই এখন আবার দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখছেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজে তিনি আরও সুযোগ পান কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ১৯৯ রানের ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছে, কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে এখনও পিছিয়ে নেই দেবদত্ত পাড়িকল।
