যে কোনও পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন বলে হুঙ্কার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে তারেক রহমান সরকার হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে দিল্লির উপর চাপ অব্যাহত রাখছে। এমন কূটনৈতিক আবহে আচমকা দিল্লি সফরে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ সারওয়ার ফরিদ! সূত্রের খবর, আরও এক পদস্থ কর্তাকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার বিকালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের দিল্লি পৌঁছান এনএসআইয়ের মহাপরিচালক।
সূত্রের তরফে দাবি, দুই দেশের গোয়েন্দা পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতেই দিল্লি এসেছেন এনএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ সারওয়ার ফরিদ। বৈঠকে উভয় দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হতে পারে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই বৈঠকে শেখ হাসিনার স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে কথা হতে পারে উভয় দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে। যদিও বিষয়টি যারপরনাই জটিল। রবিবারই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ফের বলেছেন, হাসিনাকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। ভারত সরকারকে বলা হয়েছে একজন আসামি হিসাবেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে প্রত্যর্পণ করতে হবে।
মুজিবকন্যার স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে এখন দু’টি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। একটি হল হাসিনাকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেবে বাংলাদেশ? স্বদেশে নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসাবে ভারত কি কোনও ব্যবস্থা নেবে? গোটা বিষয়টি এখনও অন্ধকারে। দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের বৈঠকে কি কোনও সমাধান সূত্র মিলবে? অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানী ঢাকার মহম্মদপুর থানার এক ট্রাকচালকের হত্যা মামলায় সোমবারই ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। একই মামলায় আরও ৩৩ জনকে আসামি করে বিচার শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে ২টিতে ফাঁসি এবং ১টিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আগেই।
