আজকাল ওয়েবডেস্ক: চতুর্থ বার, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। লাতিন আমেরিকার বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক লুলা হারিয়েছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো-কে। লুলার অতীত, ঘুরে দাঁড়ানো, ভোটে বাজিমাত, তাঁর রাজনীতিতে উত্থান, দীর্ঘ সময়কাল ধরে রাজনীতিতে নিজেকে প্রথম সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা, এক একটি চমক যেন। লুলার জীবনের প্রথম দিকের কাহিনি করুণ বললে ভুল হয় না। তাঁর ভোট প্রচার, উচ্ছ্বাসের মাঝে বেশ আলোচনা তাঁর বাম হাতের চারটি আঙুলের বিষয়টি। আর সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসছে তাঁর অতীত কাহিনি।
লুলার বাবা, আরিস্তিদেস ইনাসিও দা সিলভা বাড়ি ছেড়েছিলেন রোজগারের আশায়। মা, সন্তানদের আগলে ছিলেন। পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে, অল্প বয়সেই রোজগারের পথে হাঁটতে হয়েছিল তাঁকে। বয়স যখন দশের কোঠায়, রাস্তায় বিক্রি করেছেন খাবার। কাপড় রং করার দোকানে কাজ করেছেন। কারখানায় কাজ করার সময়, ১৯৬৪ সালে, এক রাতে তাঁর কনিষ্ঠা কাটা পড়ে। পরে কাজ হারিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেওছেন কারখানায় কারখানায়। সেই লুলাই ষাটের দশকে একদিন বড় ভাই ফ্রেই চিকোর হাত ধরে যুক্ত হন শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে। ১৯৭৫ সালে হন ইউনিয়নের সভাপতি। ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন। ১৯৮৯ সালে লুলা প্রেসিডেন্ট ভোটে লড়েন, যদিও সেভাব হেরে যান। ১৯৯৪ সালে আবার ভোটে দাঁড়ান, সেবারেও পরাজিত হন তিনি। ১৯৯৮ সালে, আবারও ভোটে দাঁড়ান, আবারও পরাজয়। পরপর তিনবার পরাজিত হলেও, তিনি হার মানেননি। ভোট লড়েন চতুর্থবারে, জিতেও যান। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। তাঁর নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ২০২২ সালের নির্বাচনে জায়ের বলসোনারোকে পরাজিত করার পথ প্রশস্ত করে।
লুলা-র তৃতীয় মেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের হার কমেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধার জ্বালা থেকে মুক্তি পেয়েছে।তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় লুলা যখন বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। একাধিকবার তাঁর তৈরি করা সামাজিক নীতি, নানা বিতর্কও তৈরি করেছে।
এবারের লড়াইয়ের আগে, লুলা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কৌশলেও পরিবর্তন আনেন। তিনি ভিডিও সেলফি তোলা করা শুরু করেন, এমনকি প্রথমবারের মতো একটি মোবাইল ফোনও কেনেন। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকরা পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মন পরিবর্তনের লক্ষ্যে জোরদার প্রচার চালান। উচ্চ হারে ভোটদানে বিরত থাকার প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে তাঁরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
আশির দশকে ব্রাজিলে গণতন্ত্র ফেরার পর এবারই সবচেয়ে রক্ষণশীল কংগ্রেস নির্বাচিত হয়েছে, যার ফলে লুলার চতুর্থ মেয়াদটি তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি (পিএল) এবং তাদের মিত্র দলগুলো মিলে নিম্নকক্ষে ২৮০টিরও বেশি এবং সিনেটে ৫০টি আসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে- যা উভয় কক্ষেই তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পক্ষে যথেষ্ট।
