সাজেক সড়কের অবরোধ ঘিরে চলমান সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তবে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সমাধান না আসায় অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার উজোবাজারে অবরোধকারী দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক হয়। পরে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, বাকি দাবিটির বিষয়েও দ্রুত সমঝোতার আশা করছেন তাঁরা।
তবে আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা জানিয়েছেন, সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও সড়কটি কবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান ও মো. আব্দুর রকিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্রিফিংয়ে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটিতে সমঝোতা হয়েছে। অবশিষ্ট দাবিটির বিষয়েও দ্রুত সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর প্রত্যাশা, শিগগিরই সাজেক সড়কের অবরোধ প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একটি গোষ্ঠীর দাবির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট আরেকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সব অবৈধ অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, বৈঠকের পর ফেসবুক লাইভে বাবুধন চাকমা বলেন, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা প্রত্যাহারসহ চারটি দাবির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দুই পক্ষের বক্তব্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। সংকট নিরসনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও অমীমাংসিত দাবিটি কীভাবে সমাধান হবে, তার ওপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।
সাজেকের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জেএসএসের (সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এটি চলমান আন্দোলনের তৃতীয় দফার অবরোধ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রমেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রধান প্রত্যাশা।

