দেবত্রী ঘোষ: ‘বম্ব বম্ব পে লিকখা হ্যায় ফটনেওয়ালেকা নাম’, সন্ত্রাসবাদী আজহার মাকসুদ বলছে তার সুইসাইড বম্বারদের। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান বদলা নিতে তৈরি। সেই হিসেব মতোই মাকসুদ সীমান্ত পেরিয়ে বারামুলায় এসে ঘাঁটি গেড়েছে। খবর পেয়ে ভারতের ‘কাউন্টার টেররিজম স্কোয়াড’ তাকে বন্দি করতে হাজির। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও অল্পের জন্য ফসকে যায় মাকসুদ। অফিসার বিক্রান্ত থাপার (আয়ুষ্মান খুরানা) বর্ডার পেরিয়েও তাকে ধরতে পারে না। কিন্তু যখন বর্ডার পেরিয়ে গিয়েও দিব্যি ফিরে আসে বিক্রান্ত, তখন সন্দেহ হয় আরেক অফিসারের। সে কি কিছু গোপন করছে তার টিমের কাছে? আকাশ কৌশিকের ‘উড়তা তীর’ এমন এক পাকিস্তানি গুপ্তচরের গল্প বলে যাকে ভারতে পাঠানো হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বদলা নেওয়ার জন্য। সে অবশ্য একা নয়, সঙ্গে রয়েছে তার শাগরেদ তারেখ বা শম্ভু (সন্দীপ আনন্দ) আর ধ্রুব ওরফে আশফাক (সুহেল নায়ার)।
‘ধুরন্ধর’-এর যুগে স্বদেশপ্রেমের গর্জন না করে, তাকে হালকা ছলে পরিবেশন করা বেশ সাহসের পরিচয়, তাও আবার প্রথম পরিচালিত ছবিতে। স্পাই কমেডিকে ছবির ধারা হিসাবে বেছে নেওয়ার ফলে, এই ছবি সন্ত্রাস থেকে দেশপ্রেম, এমনকী এই ধরনের কাজে কতটা বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে– এমন সব প্রশ্নের গভীরতায় গিয়ে তাকে গুরুগম্ভীর করে তুলতে চায় না। আর এখানেই ‘উড়তা তীর’-এর ইউএসপি লুকিয়ে (বিশেষ করে ছবির প্রথমার্ধে)।
আকাশ কৌশিকের ১৩৪ মিনিটের এই ছবির চিত্রনাট্য অনেকটাই মজা আর হালকা মুহূর্তে ভরপুর। বিশেষ করে বেশ কিছু সংলাপ প্রেক্ষাগৃহে হাসির রোল তুলবেই।
ভারতে ‘বিক্রান্ত থাপার’ নাম নিয়ে দিব্যি নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল বিলাল আহমেদ। একই দলে থেকে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিল ধ্রুব ওরফে আশফাক। গোল বাঁধল এক গাড়ি দুর্ঘটনার পর। মাথায় চোট পেয়ে সাময়িক ভাবে স্মৃতি বিস্মৃত হল বিক্রান্ত। গুলিয়ে ফেলল তার আসল পরিচয়। কিন্তু দেশপ্রেম? সেই প্যাশন তো খাঁটি! অগত্যা সেটি টিকে রইল ষোলো আনা! কেবল গুলিয়ে গেল সে আসলে কোন দেশের।
আকাশ কৌশিকের ১৩৪ মিনিটের এই ছবির চিত্রনাট্য অনেকটাই মজা আর হালকা মুহূর্তে ভরপুর। বিশেষ করে বেশ কিছু সংলাপ প্রেক্ষাগৃহে হাসির রোল তুলবেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আয়ুষ্মানের হলেও গোটা কমেডির ভার তাঁকে একা বইতে হয়নি। পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতারা তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন। এই দিক থেকেও টিমওয়ার্ক হিসেবে এই ছবি সফল। তবে বিরতির পর গল্প ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। যে বিষয়কে হালকাছলে নিয়ে দিব্যি দর্শকের মনোরঞ্জন করা হচ্ছিল, তাকেই গম্ভীর দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন পরিচালক ও গল্পকার। আর সেখানেই এই গল্পের প্লট খানিক একঘেয়ে ও কিঞ্চিৎ মেলোড্রামায় পরিণত হয়েছে।
সারা আলি খানের উপস্থিতি গল্পে বিশেষ কোনও বদল আনে না। শচীন-জিগরের সুরে বেশ কিছু গান মানানসই, যদিও কয়েকটা গান অবান্তর মনে হতে পারে।
‘উড়তা তীর’ নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পা দিয়ে ফেলেছে। ফলে শেষের ২০ মিনিট কেবল গল্প হিসেবে দুর্বলই নয়, অহেতুক মনে হয়েছে। এই ছবির কাস্টিং বেশ জোরালো। আয়ুষ্মান খুরানার কমিক টাইমিং ও অ্যাকশন দুই-ই ভালো। প্রয়াত মুকুল দেবের এটি শেষ ছবি। তাঁকে আজহার মাকসুদের ভূমিকায় বেশ ভালো লাগে। সেই সঙ্গে সুহেল নায়ার, রাহুল বোস, ব্রিজেন্দ্র কালরা এবং রঘুবীর যাদব স্বল্প পরিসরে তাঁদের অভিজ্ঞ অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন।
‘উড়তা তীর’ নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পা দিয়ে ফেলেছে। ফলে শেষের ২০ মিনিট কেবল গল্প হিসেবে দুর্বলই নয়, অহেতুক মনে হয়েছে।
সারা আলি খানের উপস্থিতি গল্পে বিশেষ কোনও বদল আনে না। শচীন-জিগরের সুরে বেশ কিছু গান মানানসই, যদিও কয়েকটা গান অবান্তর মনে হতে পারে। হর্ষবীর ওবেরয়ের ক্যামেরার কাজ ভালো। ‘উড়তা তীর’ তীব্র দেশপ্রেম প্রমাণের যে জোয়ার বইছে, তার মাঝে বেশ অন্যরকম একটা ছবি হতে পারত। এমনকী, সেই চেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছিল। কিন্তু শেষে গিয়ে এই ফুর্তির মেজাজ ধরে রাখতে অপারগ হওয়ার ফলে অন্যান্য সিরিয়াস দেশপ্রেমের ছবিগুলির থেকে নিজেকে খুব বেশি আলাদা প্রমাণ করা গেল না।
