২৩ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২৩ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের বাইরের অস্থিরতা যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোর্ডের নেতৃত্বে ঘনঘন পরিবর্তন, কোচিং স্টাফে রদবদল, দল নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই চলে খেলার প্রস্তুতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগেও ব্যতিক্রম হয়নি।
ম্যাচ শুরুর মাত্র চার দিন আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতা। তবে এত কিছুতেও বিচলিত নন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বরং মাঠের বাইরের অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি, ‘ম্যাচের আগে বিশৃঙ্খলা কি এই প্রথম দেখছেন?’
আগামী বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) অংশ হওয়ায় সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশের সামনে এখনও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় প্রস্তুতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। শনিবার হঠাৎ করেই জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আশরাফুলকে। অথচ সেদিন সকালেও মিরপুরে ক্রিকেটারদের অনুশীলনে কাজ করেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার জায়গায় আপাতত ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা চলার মধ্যেই ব্যাটিং কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সোমবার সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এই অস্থিরতার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয় সিমন্সকে। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যে বিসিবির সভাপতি পদেই তিনবার পরিবর্তন দেখেছেন ক্যারিবীয় এই কোচ। তাই এমন পরিস্থিতি তার কাছে খুব একটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
সিমন্স বলেন, ‘আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। বিশ্ব ক্রিকেটও আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে দেখছেন। ম্যাচের আগে বিশৃঙ্খলা কি এই প্রথম দেখছেন? না, তাই তো? প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ।’
আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অন্যায্য হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছিল সিমন্সের কাছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বাংলাদেশ কোচের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘আমার মনে হয় না, এই প্রশ্নটা আমার জন্য।’
মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা না বাড়িয়ে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিতে চান সিমন্স, ‘এই দুই বছরের চক্রের শুরুতে আমরা যেসব সিরিজ খেলেছি, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসল বিষয় হলো আমরা কীভাবে নিজেদের কাজ করছি, সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
টেস্ট দলের যেসব ক্রিকেটার আগে থেকেই মিরপুরে অনুশীলন করছিলেন, তাদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ, ‘এখানে যারা ছিল, তারা গত তিন-চার দিনে দারুণ কাজ করেছে। নিজেদের প্রস্তুতি ঠিকভাবেই নিয়েছে। এখন পুরো দল একসঙ্গে হচ্ছে। আগামী দুই দিনে আমরা কী করছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের বাইরে কী হচ্ছে, তা নয়। দল হিসেবে কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি, সেটাই আসল।’
অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বাংলাদেশ আদর্শ প্রস্তুতি নিতে পারেনি, সেটিও স্বীকার করেছেন এই কোচ।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যস্ত থাকায় টেস্ট দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দেশে ছিলেন না। ফলে পুরো দল নিয়ে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগ মেলেনি। বিশেষ করে ওয়ানডে ও টেস্ট, দুই সংস্করণেই খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ছিল সীমিত।
সিমন্স বলেন, ‘পুরো দলকে আমরা পাইনি, কারণ তখন একটি সিরিজ চলছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজে আমাদের এমন কয়েকজন ক্রিকেটার খেলেছে, যারা ওয়ানডে ও টেস্ট দুই সংস্করণেই দলের সদস্য। তাই প্রস্তুতিটা পুরোপুরি আদর্শ হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না।’
তবে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকও দেখছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘ওরা কিন্তু বসে ছিল না, ক্রিকেটই খেলছিল। সেখান থেকেও অনেক কিছু পাওয়া যায়। এখন আমাদের হাতে যে দুই দিন রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে পুরো দলকে একসঙ্গে এনে সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে।’
