Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সরকার আরামবাগ
বিগত তৃণমুল সরকারের আমলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের টাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল নদীবাঁধের উপরে ঢালাই রাস্তা। যে রাস্তা ছিল এলাকার অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু অভিযোগ, সেই টাকার অপব্যবহারের বড় দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছে, নদীবাঁধের উপরে যোগাযোগের সেই ঢালাই রাস্তা নির্মাণে। অচিরেই ধসে গেল সেই রাস্তা। পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এলাকা।
ঘটনাটি খানাকুল দু’নম্বর ব্লকের মুচিঘাটার মণ্ডলপাড়া এলাকার। নদীবাঁধের উপরে প্রায় ২০০ মিটার ঢালাই রাস্তা নদীগর্ভে বসে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বোরো চাষের জন্য জল ছাড়লে, এলাকা ফের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় হয়রান এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে নদীবাঁধ নির্মাণ ও তার উপরে যোগাযোগের রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় কেলেঙ্কারি যে হয়েছিল, তা বলার অপেক্ষায় রাখে না বলে মনে করেন এলাকার মানুষ। জানা গিয়েছে, মুচিঘাটার মণ্ডলপাড়া এলাকায় হুড়হুড়ি খালের বাঁধের উপরে যে যোগাযোগে রাস্তা তৈরি হয়, তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের টাকায় তৈরি এই বাঁধের ঢালাই রাস্তা অপরিকল্পিত ভাবে ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়। যার ফলে, ২০০ মিটার রাস্তা ধসে পড়ে। সেচ দপ্তরের তৈরি এই রাস্তা ধসে পড়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। মাত্র তিন বছর আগে তৈরি এই যোগাযোগের রাস্তা ভেঙে পড়েছে। নদীবাঁধের উপরে যোগাযোগের রাস্তায় ভারী যান চলাচল করায় এই বিপত্তি ঘটেছে।
আসলে, পরিকল্পিত ভাবে দুর্নীতি করে বিশ্ব ব্যঙ্কের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য কালীপদ অধিকারী বলেন, ‘নদীবাঁধের উপরে রাস্তা তৈরিতে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে। তারই পরিণতি দেখা গিয়েছে মণ্ডলপাড়া এলাকায়। অবৈজ্ঞানিক ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। তাই ধসে পড়েছে। অবিলম্বে রাস্তা মেরামত না করলে, এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়বেন।
বিশেষ করে বোরো ধান চাষের সময়ে নদীতে জল ছাড়লে, একদিকে আলুচাষিরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনই, এলাকা আবার নতুন করে প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। এই ভূমিধ্বস হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে সেচ দপ্তরের রাজ্য ও জেলা স্তরের পদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত মেরামতির জন্য ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গিয়েছেন। একটা বিকল্প রাস্তা নির্মাণের দাবিও গৃহীত হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তাটি হুগলি জেলার খানাকুলের চব্বিশপুর থেকে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর এলাকা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। এ বিষয়ে আরামবাগের মহকুমা শাসক খুশহালি সোলাঙ্কি বলেন,‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দপ্তরকে জানানো হবে, যাতে দ্রুত কাজ শুরু হয়।’ সব মিলিয়ে, তৃণমূলের আমলে এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায়, ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে হুগলি জেলাজুড়ে। কিন্তু এও প্রশ্ন উঠেছে যে, বর্তমানের শাসকদল বিজেপির নেতৃত্ব বিষয়টি কি সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন, নাকি তাঁরাও গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাবেন!
