আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া বিভিন্ন আলটিমেটামকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ২৫ অক্টোবর রোববার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি আপনাদের তা বলব? তবে উত্তর হলো, না। কোনো হামলা হবে না।’
এ সময় ইরান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে দুটি ভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যগুলো অত্যন্ত উন্নতমানের।
তবে হামলার পরিকল্পনা নাকচ করার ঠিক আগেই একই দিনে ইরান সম্পর্কে বেশ কড়া মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করা হবে, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি পরাস্ত করা হবে—এটাই এখন তাদের সামনে মূল প্রশ্ন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং সেখান থেকে ইরান কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে অথবা দেশটির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে তেহরান তাদের সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও, ইরানের সঙ্গে মার্কিন সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
