বেহালা সরশুনার ঘটনায় তাজ্জব বনে যায় গোটা বাংলা! প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা, চুম্বন করার ‘অপরাধে’ তরুণের বাবা, বন্ধু ও তাঁকে নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোশাল মিডিয়ায়। সেই ঘটনায় এবার প্রেমিকার অভিযুক্ত বাবা, মামা ও ঘটনায় যুক্ত একজনকে (যিনি ঘটনার ভিডিও করেছিলেন বলে দাবি) কোমরে দড়ি বেঁধে খালি গায়ে ঘোরাল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তদের ঘোরানো হয়। তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
নাবালিকার বাবা, মা ও মামাকে গ্রেপ্তার করেছে সরশুনার থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের চেষ্টা, অস্ত্র দ্বারা আঘাত করা, অন্যায় ভাবে আটকে রাখা, মানহানি, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এদিন মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় নাবালিকার বাবা, মামা ও আরও এক অভিযুক্তকে খালে গায়ে ঘোরানো হয়।
উল্লেখ্য, ২৫ তারিখ সরশুনার থানার বাসিন্দা এক তরুণ তাঁর নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে স্থানীয় খালপাড় মাঠে দেখা করেন। কিছুটা দূরে ছিলেন তরুণের এক বন্ধু। সেখানে তরুণ নাবালিকাকে চুম্বন করেন বলে দাবি। ঘনিষ্ঠ অবস্থায় প্রেমিক ও প্রেমিকাকে দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার এক বন্ধু। তিনি বিষয়টি জানান নাবালিকার পরিবারকে। এরপরই ওই নাবালিকার মা, বাবা ও মামা তরুণ ও তাঁর বন্ধুকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁদের হেনস্তা করা বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়, তারপর ডাকা হয় তরুণের বাবকে। দাবি, সেখানে তরুণের বাবাকে বলা হয়, তাঁরা রাস্তায় নগ্ন হয়ে না হাঁটলে তাঁদের গুলি করা করা হবে। এরপর অভিযুক্তরা ওই তিনজনকে নগ্ন অবস্থায় তাঁদের বাড়ির সামনের গলিতে প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার পর নাবালিকা প্রেমিকার মা, বাবা ও মামাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরও একজনে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার ওই এলাকাতেই অভিযুক্ত বাবা,মামা ও আরও একজনকে ঘোরানো হল।
