তিন তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিলেন। চিবাচ্ছিলেন গুটখা। কিছুক্ষণ পর মুখ বাড়িয়ে গুটখার পিক ফেলতে গিয়েই ভয়ংকর কাণ্ড। বেঘোরে প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ। মৃতের নাম প্রভুলাল গুপ্ত। জানা যাচ্ছে, গুটখার পিক হাইটেনশন তারের উপর পড়তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলায়। গায়ত্রী নগরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন প্রভুলাল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুটখা চিবাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পিক ফেলতে গিয়ে বারান্দার বাইরে মুখ বের করেন তিনি। থুতু ওভারহেড তারের সংস্পর্শে আসতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ওই বৃদ্ধ। দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, প্রভুলাল পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। বিগত ১০ বছর ধরে তিনি এই ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। থুতুতে আর্দ্রতা ও দ্রবীভূত লবণ থাকে, সে কারণে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।তরলের একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা যদি কোনও বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে, তবে তা বিদ্যুতের জন্য একটি পরিবাহী পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে ‘বৈদ্যুতিক আর্ক’ তৈরি হতে পারে। বারান্দাটি যদি বৈদ্যুতিক তারের খুব কাছে থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ বাতাসের মধ্য দিয়েই ছড়িয়ে পড়তে পারে। শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকী মৃত্যুও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে তেমনই ঘটেছে।
