
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতি পেলেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শুরু করতে সক্ষম মার্কিন বাহিনী—এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত রাখার প্রচলিত হামলার চেয়ে ব্যাপক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন ইতোমধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করেছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও ট্রাম্প যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন বলেও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী সামরিক বিকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে তেহরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এমনকি এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশেও এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা কমানো এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নতুন করে পাঠানোর কথা ছিল—এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক সদস্যের মোতায়েনও স্থগিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছেন। তবে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে অপেক্ষা করতে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে যৌথ হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি। ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, হামলা চালানো হলে দেশটির নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তা পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েল আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সম্ভাব্য ইরানি ও হুথি পাল্টা হামলার মুখে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ থাকায় মার্কিন সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে মার্কিন বাহিনী। রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রণালিটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বাড়লেও সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘টেকসই নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কূটনৈতিক সমাধান না এলে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। তবে এখনো হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং সংঘাতের অবসানে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশল কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
The post ইরানে হামলার ছক প্রস্তুত, ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষায় ওয়াশিংটন appeared first on অর্থসূচক.
