বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের সমান অধিকার রয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ঊনাইনপূরা লংকারাম বৌদ্ধবিহারে আয়োজিত প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মৈত্রী ও সম্প্রীতির আলোয় কেটে যাক সব অন্ধকার’ স্লোগান সামনে রেখে ঊনাইনপূরা সুহৃদ সম্মিলনী ও ঊনাইপূরা ছাত্র কল্যাণ সংসদ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনামুল হক এনাম বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার কোনো ধর্মের মানুষকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে না।
প্রত্যেকে যাতে স্বাধীনভাবে ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
ঊনাইনপূরা লংকারাম বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত রতনানন্দ থেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম সিকদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলমকে সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।
বিআলো/আমিনা