বড় অর্জনের পরও শেকড় ভোলেননি বর্ষসেরা কেন
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
১৭ বছর আগে লন্ডন থেকে ক্যারিয়ার শুরু হ্যারি কেনের। সেখানে অনেক চেষ্টাতেও ছিল না বড় কোন অর্জন। পাড়ি জমান জার্মানিতে, ধরা দিতে শুরু করে একের পর এক সাফল্যও। ইংল্যান্ডের রাজধানীতে আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তিনি জিতলেন বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। বর্তমানে সেরা স্ট্রাইকারদের একজন ইংলিশ ফরোয়ার্ড এখনও ভোলেননি ফেলে আসা শেকড়। বর্ষসেরা হয়ে মনে করিয়ে দিলেন পুরনো কথাও।
সোমবার রাতে জমকালো আয়োজনে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে হয়ে গেল ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। মূল আকর্ষণ ছেলে ও মেয়েদের বর্ষসেরা পুরস্কার। সেটি অর্জন করেছেন স্পেন ও বার্সেলোনার অ্যালেক্সিয়া পুতেল্লাস, সঙ্গী হয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের কেন।
ছেলেদের বর্ষসেরা পুরস্কারের নাম ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিও। সেরার নাম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৩৩ বর্ষী ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড। ব্যালন ডি’অর হাতে নিয়ে বলেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। লন্ডনে উপস্থিত থাকতে পারা এই মুহূর্তকে আমার কাছে আরও বিশেষ করে তুলেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। বুঝতে পারছি, এবছর বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেয়া কতটা কঠিন ছিল। সকল বিজয়ী ও মনোনীতদের অভিনন্দন জানাই। এটি প্রমাণ করে, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কী অর্জন করা সম্ভব।’
কেনের পুরস্কারের পেছনে বড় অবদান ২০২৫/২৬এ বায়ার্ন মিউনিখে সফল মৌসুম এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করা। জার্মান জায়ান্টদের হয়ে শেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল এবং বুন্দেসলিগা জয় আছে। করেছেন ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল এবং ৮ অ্যাসিস্ট।
বায়ার্ন এবং ক্লাব সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়ে কেন বলেছেন, ‘আপনাদের (বায়ার্ন খেলোয়াড়) ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আপনারা যেভাবে আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন এবং আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তা আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলে। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা এবং ক্লাবটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। এই পুরস্কার ক্লাবে ফিরিয়ে আনতে পেরে আনন্দিত।’
পাশাপাশি ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দল ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল এবং সতীর্থদের। সব অর্জনের পিছে জার্মান ক্লাব কিংবা থ্রি লায়ন্স থাকলেও শুরুটা একদমই ভোলেননি কেন। ক্যারিয়ার শুরু টটেনহ্যাম থেকে। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে ট্রফি এবং ব্যক্তিগত অর্জনের খরা ছিল, তবুও মনে করেন ক্লাবটি অন্যতম অনুপ্রেরণা তার।
লন্ডনে বর্ষসেরা পুরস্কার হাতে আরও একবার স্মরণ করেছেন শেকড়। শহরের ক্লাবটিকে উদ্দেশ্য করে কেন বলেছেন, ‘টটেনহ্যাম না থাকলে, যেখানে আছি সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। এই ক্লাবটিকে এবং সেইসব কোচকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমার স্বপ্নপূরণে সাহায্য করেছেন। আমার জীবনের ভালো-মন্দ সব মুহূর্তই আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’
সবাইকে ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা জানিয়ে শেষ করেন কেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যামের ভক্তরা, এবং বিশ্বজুড়ে যারা আমাকে সমর্থন করেন, সবাইকে আমি ভালোবাসি। আপনাদের সমর্থনের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। মনে পড়ে খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, নিজেও একজন ভক্ত ছিলাম। আর এখন ভক্তদের কাছে আমি ফুটবলের আরেক অর্থ।’
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
