মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছেন মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল ও থিয়েটারকর্মী জান্নাতুন নেছা। গত ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের খবরের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী দেনমোহরের অঙ্কটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দেনমোহরের জন্য ৯৯৯ টাকা বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ ভাবনা বলে জানিয়েছেন সুজাত শিমুল। তার মতে, এই সংখ্যার সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা ও জীবনের অপূর্ণতার একটি প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে।
বিয়েতে এই অঙ্ক নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে সুজাত শিমুল বলেন, তারা এমন একটি সংখ্যা বেছে নিতে চেয়েছিলেন, যা তাদের কাছে অর্থবহ ও ব্যতিক্রমী হবে। বাংলাদেশের জরুরি সেবার পরিচিত নম্বর ৯৯৯ থেকেই ‘ট্রিপল নাইন’-এর ধারণাটি আসে। তার ভাষায়, বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, যা নতুনভাবে পথচলা ও পরিপূর্ণতার অনুভূতি নিয়ে আসে।
তবে ৯৯৯ সংখ্যাটির আরেকটি প্রতীকী ব্যাখ্যাও রয়েছে। শিমুলের মতে, তিনটি ৯-এর পর হাজারের ঘরে শূন্যস্থান থেকে যায়। এটি মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবনে সবকিছু কখনো পুরোপুরি পূর্ণ হয় না, কোথাও না কোথাও কিছু ঘাটতি থেকে যায়—এই ভাবনাও তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়া সুজাত শিমুলের শ্বশুর পুলিশে চাকরি করতেন। ফলে ৯৯৯ নম্বরের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কও তাদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
দেনমোহর নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণার বাইরে গিয়ে একটি বার্তা দেওয়ার ভাবনাও ছিল তাদের। শিমুল মনে করেন, বিয়েতে দেনমোহরের অঙ্ক অনেক সময় সামাজিকভাবে বিনিময় কিংবা পারস্পরিক আস্থা-অনাস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। সেই ধারণার বাইরে গিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চেয়েছেন তারা।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে বিয়ের আয়োজন করায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেননি এই অভিনেতা। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে সবার অংশগ্রহণে বিয়ের মূল আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
নতুন জীবনের শুরুতে সবার কাছে দোয়া চেয়ে সুজাত শিমুল বলেন, তাদের দাম্পত্য জীবন যেন সুখের হয়, সে জন্য সবাইকে শুভকামনা ও দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
