এম,শাহজাহান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া সরকারি আবাসন গুচ্ছ-গ্রামের বাসিন্দারা ভালো নেই। কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানকার নারী-পুরুষ ও শিশুরা। সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও এসব পরিবারের স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস নেই। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই তাঁদের বেকার থাকতে হয়। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাঁদের। জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের রাংটিয়া এলাকায় সরকার গুচ্ছগ্রামটি প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিন্নমূল ২৫টি পরিবারকে সেখানে পুনর্বাসন করা হয়। বর্তমানে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক মানুষের বসবাস এ গুচ্ছগ্রামে।
গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর। তাঁদের কেউ কেউ শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতাহীন। দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা কাজ পেলে আয় করতে পারেন, আর কাজ না পেলে থাকতে হয় বেকার। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছিন্নমূল পরিবার গুলোকে পুনর্বাসন করা হলেও তাঁদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বসবাসের জায়গা পেলেও আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি মেলেনি এসব পরিবারের। জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেককে অন্যের কাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এলাকায় কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সারা বছর নিয়মিত আয় করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় কেউ কেউ পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগও আর আগের মতো নেই। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ, আব্দুল করিমসহ অন্যরা জানান, গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার সময় তাঁরা সরকারি কিছু সহায়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তাঁদের ভাগ্যে জুটছে না কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁদের খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ তাঁদের।
তাঁরা আরও জানান, গুচ্ছগ্রামে ছয়টি নলকূপ স্থাপন করা হলেও সংস্কারের অভাবে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গুচ্ছগ্রামের মাঝখান দিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে গুচ্ছগ্রামটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। অভাবের তাড়নায় জীবিকার সন্ধানে গুচ্ছগ্রামের কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
নিয়মিত কাজ ও আয়ের অভাবে এসব পরিবারের সদস্যদের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এমতাবস্থায় রাংটিয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শুধু পুনর্বাসন করলেই হবে না, এসব পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষমতাহীন ব্যক্তিদের সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
দারিদ্র্য ও বেকারত্বের এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে রাংটিয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা এখন কার্যকর সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
The post কর্মসংস্থানের অভাবে ভালো নেই ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া গুচ্ছগ্রামবাসী appeared first on sokalerkhobor24.com.
