আজকাল ওয়েবডেস্ক: খেলাধুলা করতে করতেই মর্মান্তিক পরিণতি সাত বছরের নাবালকের। গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেছিল কাছের বন্ধু। শ্বাসরোধ হয়ে কয়েক মিনিটেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল সে। ঘটনাটি ঘিরে তোলপাড় গোটা শহর। অভিযুক্ত নাবালকের মাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সাত বছর বয়সি এক নাবালক খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু সেদিন সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে এক পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, খেলাধুলার সময়েই শ্বাসরোধ করে নাবালককে খুন করে তার এক বন্ধু। ১০ বছর বয়সি এক নাবালক তার গলার দড়ি পেঁচিয়ে চেপে রেখেছিল। শ্বাসরোধের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নাবালকের। এরপর তার দেহটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে রেখে দেন অভিযুক্ত নাবালকের মা। ইতিমধ্যেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বন্ধুর সঙ্গেই খেলাধুলা করছিল ওই নাবালক। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়ি ফেরেনি সে। এরপরই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন নাবালকের মা। নাবালককে খুঁজতে পুলিশের পাঁচটি বিশেষ টিম ও ৯০ জন পুলিশ মিলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে সোমবার সকালে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে নাবালকের নিথর দেহ পাওয়া যায়।
নাবালকের দেহ উদ্ধার করেই মাদুরাইয়ের সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ফরেন্সিক টিম ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয় ওই এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা যায়, খেলাধুলার মাঝেই নাবালকের গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেছিল ১০ বছর বয়সি ওই নাবালক। তখনই দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে তার সামনের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়। শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেই ওই বন্ধুর বাড়িতে জল খেতে যায়। সেই সময়েই বন্ধুর মায়ের সামনে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে সে। তখনই নাবালকের মা টের পান, সে প্রাণ হারিয়েছে। ছেলের দোষ চাপা দিতেই পরিত্যক্ত বাড়িতে নাবালকের দেহটি লুকিয়ে রাখে। যদিও মৃত নাবালকের পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।
