ইদানীং স্বাস্থ্যসচেতন অনেকের হেঁশেলেই রাখা থাকছে প্রোটিন পাউডার। জিমের প্রশিক্ষকেরাও খেতে বলেছেন, সমাজমাধ্যমও প্রোটিন পাউডাররে বিজ্ঞাপনে ভর্তি। ওজন কমবে, পেশির শক্তি বাড়বে, সারাদিন পেটও ভরা থাকবে— এসবের আশায় কিনেও ফেলেছেন শখ করে। কিন্তু কয়েক দিন পরেই উৎসাহে ভাটা। কারণ একটাই — স্বাদ। কেমন আঠালো, খসখসে, মুখে লেগে থাকা একটা কৃত্রিম মিষ্টি ভাব। নাক চেপে রোজ খাওয়া আর কতদিন সম্ভব? অনেকেই তাই দামি কৌটোটি ফেলেই রাখেন। আসলে প্রোটিন পাউডারকে ওষুধের মতো ভাবলেই মুশকিল, স্বাদ ভাল না লাগলে অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে স্বাদেও হেরফের হবে না, আর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতিও মিটবে।
কোন কোন খাবারে মিশিয়ে দিতে পারেন প্রোটিন পাউডার?
১. বেসনের প্রোটিন চিলা
সাধারণ চিলায় প্রোটিন পাউডার মিশিয়ে দিলেই হল! তবে সাবধান! ভ্যানিলা বা চকোলেট ফ্লেভারের পাউডার দিয়ে চিলা বানালে পুরো স্বাদটাই নষ্ট হয়ে যাবে। এই রান্নার জন্য সবসময়ে আনফ্লেভারড প্রোটিন পাউডার ব্যবহার করুন।
কী ভাবে বানাবেন:
বেসনের সঙ্গে পেঁয়াজকুচি, টম্যাটো, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা, জিরে, হলুদ, জোয়ান, নুন আর পরিমিত মাত্রায় জল মেশান। বেসনের মিশ্রণে মিশিয়ে দিন প্রোটিন পাউডার। এ বার চিলাগুলি অল্প তেলে তাওয়ায় ভেজে পুদিনার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
২. প্রোটিন প্যানকেক
শিশু থেকে বড়, প্যানকেক সবার প্রিয়। নরম তুলতুলে প্যানকেকে ভ্যানিলা প্রোটিনের গন্ধ একদম বোঝা যায় না।
কী ভাবে বানাবেন:
প্যানকেকের ব্যাটারে ময়দা, ডিম, দুধ, বেকিং পাউডারের সঙ্গে ১ স্কুপ প্রোটিন পাউডার মেশান। পাকা কলা বা একটু দারচিনি দিলে স্বাদ আরও বাড়বে। ব্যাটার ঘন মনে হলে একটু দুধ মেশান, বেশি ফেটাবেন না। মধু বা পিনাট বাটারের সঙ্গে ফলকুচি দিয়ে খেতে পারেন।
৩. প্রোটিন রুটি বা পরোটা
রোজ রুটি তো খাওয়াই হয়। সাধারণ রুটি, পরোটার সঙ্গেও মিশিয়ে নিতে পারেন প্রোটিন পাউডার। স্বাদে হেরফের হবে না, তবে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি মিটবে।
কী ভাবে বানাবেন:
আটার সঙ্গে অল্প পরিমাণ প্রোটিন পাউডার মেশান। ধরুন ২ কাপ আটায় ১ চামচ। ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মেখে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। প্রোটিন পাউডার বেশি জল টানে, তাই জল একটু বেশি লাগতে পারে। এর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন পনির, টফু বা ডিম— তা হলে প্রোটিনের মাত্রা আরও বাড়বে।
