লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা চিতাবাঘটি ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা যায়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বাঘটিকে ধরতে ঢাকা ও রংপুরের বন বিভাগের দুটি দল অভিযান চালাচ্ছে।
রোববার বিকেলে বাঘটির আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন- স্থানীয় শরীফা বেগম, নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে যান শরীফা বেগম। এ সময় তিনি দেখতে পান, একটি চিতাবাঘ তার ছাগলকে আক্রমণ করেছে। ছাগলটিকে বাঁচাতে গেলে বাঘটি তার ওপরও হামলা চালায়। এ দৃশ্য দেখে নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী ওই নারীকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও আক্রমণ করে বাঘটি। পরে বাঘটি পাশের একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধানক্ষেতের চারপাশ ঘিরে রাখেন। স্থানীয়দের দাবি, বাঘটিকে তাড়াতে বিজিবি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের ধারণা, বাঘটি ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাঘটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে ছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও বিজিবি সদস্যরা ক্ষেতটি ঘিরে রাখেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে বাঘটিকে শনাক্ত করেন। তবে একপর্যায়ে সেটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে খুঁজতে অভিযান শুরু করেন। ঢাকা ও রংপুরের দুটি দল পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও বাঘটিকে খুঁজে পায়নি।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল হক মনা বলেন, বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাঘটিকে উদ্ধারে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেছেন।
রংপুর বিভাগীয় সামাজিক বন কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে ঢাকা ও রংপুরের দুটি দল বাঘটিকে ধরার জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। তবে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। আমরা ধারণা করছি, বাঘটি বর্তমানে এই এলাকায় নেই। আমাদের চেষ্টা চলমান আছে।’
