সংবাদ · সাধারণ
পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের নতুন শাখা সম্প্রসারণ, নজরে তরুণ প্রজন্ম
২৬/১০/২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। রাজ্যজুড়ে নতুন শাখা গঠন থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি—একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের তৃণমূল স্তরের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আরএসএসের দাবি, অক্টোবরের প্রথম দশ দিনে রাজ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি নতুন শাখা চালু হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে।১০ দিনের অভিযানেই বড়সড় সম্প্রসারণআরএসএসের সাংগঠনিক বিস্তারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রধান বিপ্লব রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। অক্টোবরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পর নতুন শাখার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।সংগঠনের পদাধিকারীদের দাবি, এই অভিযানে এমন বহু এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে আগে আরএসএসের উপস্থিতি ছিল সীমিত অথবা কোনও শাখাই ছিল না। তবে নতুন করে চালু হওয়া সব শাখা দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয় থাকবে কি না, তা নির্ধারণে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।নজরের কেন্দ্রে তরুণ প্রজন্মশুধু নতুন শাখা খোলাই নয়, আগামী দিনে সংগঠনের সঙ্গে আরও বেশি তরুণকে যুক্ত করাও আরএসএসের অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় যুব সম্মেলন, জনসংযোগ কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক পরিচিতি শিবিরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংগঠনের কর্মসূচিতে শারীরিক অনুশীলন, সূর্য নমস্কার, কাবাডি এবং অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুজোর পর নতুন শাখাগুলিকে আরও সক্রিয় করে তুলতে সাত দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এই উদ্যোগের তাৎপর্য হল, সংগঠনটি শুধু শাখার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না; নতুন সদস্যদের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।নতুন কার্যালয়, বাড়ছে পরিকাঠামোসাংগঠনিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নেও পদক্ষেপ করেছে আরএসএস। কলকাতার নিউ টাউনে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা নতুন ভবন, যার নাম ‘কেশব স্মৃতি’। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।উত্তর কলকাতার কেশব ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংগঠনের বক্তব্য, কার্যক্রম ও কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ায় নতুন ভবনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। নতুন পরিকাঠামো সংগঠনের সাংগঠনিক কাজ, বৈঠক এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনায় অতিরিক্ত জায়গা দেবে।সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের ভাবনাশাখা বৃদ্ধির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। অক্টোবরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাজ্যকে বর্তমান তিনটি প্রান্তের পরিবর্তে পাঁচটি সম্ভাগে ভাগ করার প্রস্তাবের কথা উঠে এসেছে। উত্তরবঙ্গ, নদিয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে এই পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।তবে এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া একে কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন সমীকরণ?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের আবহে আরএসএসের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপির আদর্শগত পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরএসএসের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও সংগঠনটি নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।রাজ্যে শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন কার্যালয় তৈরি এবং তরুণদের যুক্ত করার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের উপস্থিতি আরও মজবুত করার দিকে এগোচ্ছে আরএসএস। তবে এই সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নতুন শাখাগুলির ধারাবাহিক কার্যক্রম, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যতের সাংগঠনিক পরিকল্পনার উপর।সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাম্প্রতিক উদ্যোগ কেবল শাখা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়; বরং সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।সম্পাদনাগত নোট: ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ১০ দিনের অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি নতুন শাখা চালুর দাবি প্রকাশিত হয়েছে। তবে মোট শাখার সংখ্যা ঠিক ১০ হাজার হয়েছে কি না, তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তাই শিরোনাম ও প্রতিবেদনে নতুন শাখা বৃদ্ধির দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মোট সংখ্যা নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।/
মূল প্রতিবেদনে যান ↗