কালবেলা · সাধারণ
‘১২ একর জমিতে ২৮০০ পরিবারের বসবাস অসম্ভব’
২৬/১০/২০২৬

নারায়ণগঞ্জের আদমজী বিহারি ক্যাম্পের ২৮০০ পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তারা জানিয়েছে, ক্যাম্পের ৩৯ একর জমিতে অথবা নারায়ণগঞ্জের অন্যকোনো জায়গায় তাদের পুনর্বাসন করতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সিবিসিবি সেন্টারে ‘আদমজী উর্দুভাষী ক্যাম্পে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি’ অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। কাউন্সিল অব মাইনরিটিজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, আদমজী ক্যাম্পের ৩৯ একর জমিতে প্রায় ২৮০০ উর্দুভাষী পরিবার বসবাস করে। কিন্তু বর্তমানে আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ তাদের ১২ একর জমিতে বসবাসের প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে বাসিন্দাদের জন্য টিনের চালাও তৈরি করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পবাসী এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
খালিদ হোসেন বলেন, ‘আদমজী ইপিজেড বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার চাইলে পুরো ক্যাম্পের ৩৯ একর জমি ইপিজেডের অধীনে নিতে পারে।
কিন্তু ক্যাম্পবাসীর দাবি, তাদের যেন পুনর্বাসন করা হয়-হয় ক্যাম্পের পুরো ৩৯ একর জমিতে, নয়তো নারায়ণগঞ্জের অন্যকোনো জায়গায়। কারণ, ২৮০০ পরিবারের প্রায় ১০ হাজার মানুষের পক্ষে ১২ একর জমিতে বসবাস করা অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গত পাঁচ বছর ধরে এই ক্যাম্প নিয়ে কাজ করছি। এখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে আমরা জরিপ করেছি, বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবশেষে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছি। আমরা চাই, সরকার আমাদের সঙ্গে বসুক, কথা বলুক।’
খালিদ হোসেন বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পেরিয়েছে। আমরা এ দেশের নাগরিক হয়েছি, নির্বাচনে ভোট দিচ্ছি, আমাদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। আমাদের পুনর্বাসনে কোনো সরকার এগিয়ে আসছে না। বর্তমান সরকার আমাদের সমস্যার সমাধান করবে বলে আমরা আশা রাখি।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কমিউনিটি লেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় আদমজী ক্যাম্পবাসীর পুনর্বাসনের রোডম্যাপ নির্ধারণে হাউসহোল্ড সার্ভে ও ভূমি জরিপ পরিচালনা করেছে কাউন্সিল অব মাইনরিটিজ। বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা এবং জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসনের একটি মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে সেই পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংগঠনটির প্রধান স্থাপত্যশৈলী রাবেয়া রহমান।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗