চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বর্জ্যকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আগ্রহী আমি। এক্ষেত্রে জাপানের প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।’
রবিবার (২৫ অক্টোবর) নগর ভবনে জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (JFE) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। গত জুলাইয়ে জাপান-বাংলাদেশ ৮ম পিপিপি প্লাটফর্ম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (JFE) পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়।
সাক্ষাতে জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিরা জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করে। এই বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বর্জ্য থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি কার্যকর উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাংলাদেশের বাস্তব প্রয়োজনের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।
জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইজি কোগা ও জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (JFE) পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গেন তাকাহাসি এবং ভাস্কর সাহা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মো. খান এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
