আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছিল লালবাজার। তদন্তের কারণে ফুটেজগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সিসিটিভি ফুটেজ স্পষ্ট করবে ঘটনার আসল বিবরণ। চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও তা এখনও সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করা যায়নি। পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকার ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে প্রায় ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা যায়নি এখনও। বাকি ১৬টি উদ্ধার করা গিয়েছে। বাকি সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া কি যাচ্ছে না? সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে লালবাজার। পুলিশের বক্তব্য, সিসিটিভি সিভিআর ম্যালফাংশন অর্থাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই ১৬টির ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশ্লেষণ করাও সম্ভব হয়নি। তবে শীঘ্রই সেই ফুটেজ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ।
গত ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, ২৫ জন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরে ডিসি ডিডি-র নেতৃত্বে আট সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ঘটনার তদন্তে পুজোমণ্ডপ থেকে ৩২টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। লালবাজার সূত্রে খবর, এর মধ্যে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলেও, বাকি ১৬টির ফুটেজ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, এই ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ একটি ডিভিআর-এ রেকর্ড হয়েছে। সেই ডিভিআরটি আপাতত কাজ করছে না। তাতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে এই ত্রুটি সাময়িক বলেও দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, কলকাতা পুলিশের কাছে এমন ত্রুটিপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধার করার বন্দোবস্ত রয়েছে। বিষয়টির নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। এই ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ দ্রুতই ডিভিআর থেকে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী পুলিশ। আর এই ফুটেজ উদ্ধার হলে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে মাইকে ঘোষণা হওয়ার পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার উপর প্রবল বৃষ্টিও একটি কারণ ছিল। এই দু’টি ঘটনার ফলে দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তার পরেই বিপর্যয়ের ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোট ন’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই ঘোষণাকারী কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া এবং সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু (কোষাধ্যক্ষ)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সেন্টুকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিশ।
কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং কী কারণে বড় বিপর্যয়ের ঘটল, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। কোন সময় এমন ঘোষণা হয়েছিল, তার সঙ্গে পদপৃষ্ঠ হওয়ার মূহূর্ত তদন্তকারীরা মিলিয়ে দেখতে চাইছেন। ইতিমধ্যেই ৫০ থেকে ৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহত ব্যক্তি, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন। এ ছাড়াও, ঘটনার দিনে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়ো পুলিশ বিশ্লেষণ করেছে। ঘটনার সময় মণ্ডপের বাইরে এবং প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে মোতায়েন থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীকেও লালবাজারে ডেকে তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
