আগামী পুর নির্বাচনে মহাজোটের ডাক দিলেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব। সোমবার শিলিগুড়ির দলীয় দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, গণতন্ত্ররক্ষার্থে বিজেপিবিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। তবেই দেশের সংবিধানকে রক্ষা করা যাবে। কংগ্রেস এবং সিপিএম অবশ্য বলছে, এখনই এ সব নিয়ে বলার মতো জায়গায় নেই তারা। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণায় দেরি আছে। তখন ভাবা যাবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টালমাটাল পরিস্থিতি তৃণমূলের। মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা গৌতম জানিয়েছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়তে বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গ চায় তারা। শিলিগুড়ি পুরনিগম পরিচালনা হচ্ছে প্রশাসক বসিয়ে। কিছু দিনের মধ্যে রাজ্যে পুরভোটের সম্ভাবনা। এমতাবস্থায় এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামতে চাইছেন গৌতমেরা। সোমবার তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য এবং দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র বিপন্ন। ইভিএম হ্যাক করে কী ভাবে ভোটচুরি হয়েছে, তা তো জানাই গিয়েছে। এসআইআরের নামে অযথা কত মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। পুরনির্বাচন নিয়েও আমাদের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা চাই, গণতন্ত্র রক্ষা করতে বিজেপিবিরোধী বাম, কংগ্রেস সকলে মিলে জোট করা প্রয়োজন।’’ শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়রের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের পর থেকে তাঁদের দলের একের পর এক নেতা এবং কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
যদিও গৌতমের জোট নিয়ে বার্তায় এখনই মাথা ঘামাচ্ছে না কংগ্রেস-সিপিএম। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সুবীন ভৌমিক বলেন, ‘‘আমরা তো এখনও প্রস্তাব পাইনি। তবে দেশের সংবিধানরক্ষার জন্য বিজেপিবিরোধী প্রতিটি দলের সঙ্গে আন্দোলন করছি। কিন্তু পুর নির্বাচনে জোট নিয়ে বলার মতো জায়গা এখনও আসেনি।’’
অন্য দিকে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন মেয়র তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘‘সংবিধান এবং গণতন্ত্র বিপন্ন, তা আমরা আগেই বলেছি। তাই এ বিষয়ে আমরা সকলকে নিয়ে আন্দোলন করতে প্রস্তত। সেটা রাজ্য হোক কিংবা দেশে। কিন্তু নির্বাচনে জোট এ ভাবে ঠিক হয় না। তা আমাদের রাজ্য কমিটি ঠিক করবে। এখনই এ সব বলার মতো কিছু নেই।’’
অন্য দিকে, বিজেপির উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার আহ্বায়ক রাজু সাহার কটাক্ষ, ‘‘মানুষ পরিষ্কার ওদের (তৃণমূল) প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদের আর ফেরার কোনও আশা নেই। তাই এ সব করে কোথাও কোনও লাভ নেই।’’
