সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফেরাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে নজরুলের বাড়িতে যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি নজরুলের মা-বাবার খোঁজখবর নেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।
সাক্ষাৎকালে নজরুলের মা-বাবা জানান, পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ধারদেনা করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মক্কার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নজরুল। তাদের দাবি, সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় নারীঘটিত অনৈতিক অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরিবারকে কিছু না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে সন্তানের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান মা রহিমা বেগম ও বাবা আব্দুল বাছির।
বাবা আব্দুল বাছির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, পরিবার হিসেবে তা স্পষ্টভাবে আমাদের জানানো হয়নি। অপরাধ করলে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে এ দেশের আইনে বিচার করা যেত। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের পরও সরকারিভাবে আমাদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা শুধু ছেলের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হবে।’ একই সঙ্গে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান বিরামপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম (২২)। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদের কাছে সুইটি আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাবন্দী থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বিআলো/শিলি