লাচেনপা ও এডমুন্ডছবি: East Bengal FC
Published on
:
2 min read
এ বার খাতায় কলমে ACL ২-র সবচেয়ে দুর্বল দল ওমানে আল সিব। এর আগে দুটো ম্যাচেই তারা হেরেছিল। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে স্কোরটা প্রায় এক হবে বলে আশা করেছিলেন সমর্থকরা। এর কারণ যদি আল সিবের বর্তমান ফর্ম হয়, তার সঙ্গে ছিল ISL-এ ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান ফর্ম। টানা দুই ম্যাচে জিতে, ACL ২-তে বাকি দুটো ম্যাচে লড়াই করে খেলতে নেমেছিল আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসের ছেলেরা। কিন্তু দুর্বল আল সিবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সন্তুষ্ট থাকতে হলো লাল হলুদ ব্রিগেডকে। ম্যাচ ড্র-র নেপথ্যে লাল-হলুদের গোলকিপার ফুরবা লাচেনপা। প্রভসুখন সিং গিলের জায়গায় তাঁকে নামিয়ে কোচ যে ভুল করেননি তার প্রমাণ তিনি দিলেন এই ম্যাচে।
ভারতীয় ব্রিগেড দিয়ে শুরু হাবাসের
ম্যাচের শুরু থেকেই বড় চমক দিয়েছিলেন স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড হাবাস। আইএসএলের শেষ ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করা বিদেশি তারকা স্ট্রাইকার একে লোবা কিংবা জ়লনস্কিকে বাইরে রেখে ডেভিড, এডমুন্ড লালরিন্ডিকা ও বিপিন সিংকে দিয়ে সাজিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভারতীয় আক্রমণভাগ। ৪-৪-২ ছকে নেমে ম্যাচের প্রথমার্ধে বল পজেশন ধরে রেখে ওমানি ক্লাবকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। ৩০তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ডেভিড। বক্সের ভেতর বল পেয়ে আল সাদির দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে তিনি শট নিলেও সতর্ক ছিলেন ওমানি গোলকিপার আল ওয়াহাইবি। উল্টোদিকে আল সিবের গ্যাবোনিজ ফরোয়ার্ড এক্সেল মেয়ের সঙ্গে দ্বৈরথে বারবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান লাচেনপা। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লড়াইয়ের ঝাঁজ বাড়ে। ৪৮তম মিনিটে বক্সে আল সিব দলবদ্ধ আক্রমণ শানালে নিশ্চিত গোলের মুখ থেকে বল বের করে দেন প্যালেস্তাইনি মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ। ঠিক পরের মিনিটেই বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে শট নেন এডমুন্ড, কিন্তু তা পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬০ মিনিটের মাথায় জিকসন সিংকে তুলে রোহিত কুমারকে নামান হাবাস। এরপর ৬৬ মিনিটে ডেভিডের জায়গায় নামানো হয় ফর্মে থাকা একে লোবাকে। নেমেই ৬৯ মিনিটে একটি দর্শনীয় ওভারহেড কিক নেন লোবা, যা অল্পের জন্য জালের উপর দিয়ে চলে যায়।
শেষ মিনিট ড্রামায় ভরা
ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিট খেলা রূপ নেয় এক রুদ্ধকর ড্রামায়। ৮০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে রশিদের নিখুঁত ক্রস থেকে ডানপ্রান্ত ধরে দৌড়ে এসে বুলেট শট নেন বিপিন সিং। নিশ্চিত গোল বাঁচাতে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে বল প্রতিহত করেন আল সিব কিপার। এর ঠিক পরেই পাল্টা আক্রমণে নামে ওমানি দলটি। ৭৭ ও ৭৯ মিনিটে আল বুরেইদি ও আল মালকির জোরালো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
তবে ম্যাচের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময়ের অন্তিমলগ্নে বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেয়ে আচমকা জোরালো শট নেন ওমানের তারকা জাহির আল আঘবারি। বল যখন পোস্টের টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ানোর মুখে, ঠিক তখনই চোখ ধাঁধানো ডাইভ দিয়ে নিজের ডানহাতের আঙুলের ডগা দিয়ে বলের গতিপথ বদলে দেন ফুরবা লাচেনপা। কর্নারের বিনিময়ে এই অভাবনীয় সেভের পর যেন গোটা আল সিব স্তব্ধ হয়ে যায়। ৮৮ মিনিটে প্রতি-আক্রমণে রশিদের শট ওমানি বক্সে জটলা তৈরি করলেও তা থেকে গোল আসেনি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলে ইস্টবেঙ্গলের থেকে এগিয়ে আল সিব। তারা মোট শট নেয় ১৮টা, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল নেয় ১০টা। গোলে আল সিব শট নেয় ৫টা, যেখানে ইস্টবেঙ্গল মাত্র দুটো। বলের দখলেও এগিয়ে আল সিব।
ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ৩ নভেম্বর আল সিবের বিরুদ্ধে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
