Published on
:
2 min read
পরিবারের খরচ চালানো, সঞ্চয় করা কিংবা জরুরি সময়ে টাকার ব্যবস্থা করতে বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা সুবিধাজনক। এতে একাধিক ব্যক্তি একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি। না হলে টাকা তোলা, কর দেওয়া বা পারিবারিক বিবাদের সময়ে সমস্যা হতে পারে।
১. অ্যাকাউন্ট চালানোর নিয়ম
জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট সাধারণত তিন ভাবে চালানো যায়।
- Either or Survivor: দুই অ্যাকাউন্টধারীর যে কেউ একা টাকা তুলতে বা লেনদেন করতে পারেন।
- Joint: প্রতিটি লেনদেনের জন্য সব অ্যাকাউন্টধারীর অনুমতি বা স্বাক্ষর প্রয়োজন।
- Former or Survivor: প্রথম অ্যাকাউন্টধারী জীবিত থাকাকালীন মূলত তিনিই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে অন্য ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট চালাতে পারেন।
কতটা স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ চান, তা বুঝে সেই ধরনের অ্যাকাউন্ট ওপেন করুন।
২. নমিনি রাখুন
জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুললেই একজনের মৃত্যুর পরে অন্যজন সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে টাকা পেয়ে যাবেন, এমন নয়। নমিনি থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। নমিনি না থাকলে আইনি উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে নমিনির তথ্য আপডেট রাখুন।
৩. করের নিয়ম জানুন
অ্যাকাউন্টে কার নাম প্রথমে রয়েছে, তার উপর সুদের কর নির্ভর করে না। সাধারণত যে ব্যক্তির আয়ের টাকা জমা হয়েছে, সেই আয়ের করের দায়ও তাঁর। কে কত টাকা জমা করছেন, তার হিসাব রাখলে ভবিষ্যতে সমস্যা এড়ানো যায়।
৪. বিবাদ বা জরুরি পরিস্থিতির কথা ভাবুন
অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে বিবাদ হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন আটকে দিতে পারে। আবার কারও মৃত্যু হলে অ্যাকাউন্ট চালানোর নিয়ম অনুযায়ী টাকা তোলার সুযোগ নির্ধারিত হবে। তাই আগে থেকেই এই পরিস্থিতিগুলি নিয়ে আলোচনা করুন।
৫. পরে নিয়ম বদলানো যায়, তবে সবার সম্মতি লাগতে পারে
অ্যাকাউন্ট চালানোর পদ্ধতি বা নমিনির তথ্য পরে বদলানো সম্ভব। তবে সাধারণত সব অ্যাকাউন্টধারীর স্বাক্ষর লাগে। কোনও কোনও ব্যাঙ্কে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিচয় যাচাই করাতেও হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই নিয়মগুলি বুঝে নেওয়া ভাল।
